সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আবারও ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, গোপালগঞ্জের ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৬

সংগৃহীত ছবি

অবৈধ পন্থায় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে আবারও নৌকাডুবির ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই যুবকের সলিল সমাধি হয়েছে। এ ঘটনায় একই উপজেলার আরও ছয় যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।

 

এসব পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ টাকা খরচ করে গত অক্টোবর মাসে ইতালির উদ্দেশে অবৈধ পথে লিবিয়া যান মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের পশ্চিম লখন্ডা গ্রামের আকোব আলী শেখের ছেলে এনামুল শেখ ও একই গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে আনিস শেখ।

 

গত ১৩ নভেম্বর রাতে ভূমধ্যসাগরের লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে যায়। এর একটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক। ঘটনার পর চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে কয়েকদিন তথ্য সংগ্রহের পর পরিবারগুলো নিশ্চিত হয় এ ঘটনায় এনামুল ও আনিস নিহত হয়েছেন।

 

একই ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলার পশ্চিম লখন্ডা ও কাশালিয়া ইউনিয়নের ছয় যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

তারা হলেন- আওলাদ শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ, হায়দার শেখের ছেলে আবুল শেখ, ইকরাম মীনার ছেলে দুলাল মীনা, হায়দার মীনার ছেলে আশিক মীনা, খালেক মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লা এবং গুণহর গ্রামের হাফিজ মীনার ছেলে নিয়াজ মীনা।

এমন খবরে শোকে ভেঙে পড়ে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারগুলো। তাদের বাড়িতে ভিড় করতে থাকে স্বজন, প্রতিবেশী এবং সাধারণ মানুষ। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্র প্রতারণা করে এলাকার অসহায় মানুষকে অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
ননীক্ষির ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর মোল্লা বলেন, “লাখ লাখ টাকা খরচ করে যুবকদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পরিবারগুলো জমি বিক্রি করে এই লোভনীয় প্রস্তাবে টাকা দেয়। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও ভালো উপার্জন আর উন্নত জীবনের জন্য এরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।”

 

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, “নিহত দুইজন ও নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ পর্যায়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও সাগরপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা চলছেই বাংলাদেশিদের

81
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, গোপালগঞ্জের ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৬

আপডেট টাইম : ০৭:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
অবৈধ পন্থায় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে আবারও নৌকাডুবির ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই যুবকের সলিল সমাধি হয়েছে। এ ঘটনায় একই উপজেলার আরও ছয় যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।

 

এসব পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে প্রায় ২১ লাখ টাকা খরচ করে গত অক্টোবর মাসে ইতালির উদ্দেশে অবৈধ পথে লিবিয়া যান মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের পশ্চিম লখন্ডা গ্রামের আকোব আলী শেখের ছেলে এনামুল শেখ ও একই গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে আনিস শেখ।

 

গত ১৩ নভেম্বর রাতে ভূমধ্যসাগরের লিবিয়ার আল-খুমস উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে যায়। এর একটিতে ছিলেন বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক। ঘটনার পর চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে কয়েকদিন তথ্য সংগ্রহের পর পরিবারগুলো নিশ্চিত হয় এ ঘটনায় এনামুল ও আনিস নিহত হয়েছেন।

 

একই ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলার পশ্চিম লখন্ডা ও কাশালিয়া ইউনিয়নের ছয় যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

তারা হলেন- আওলাদ শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ, হায়দার শেখের ছেলে আবুল শেখ, ইকরাম মীনার ছেলে দুলাল মীনা, হায়দার মীনার ছেলে আশিক মীনা, খালেক মোল্লার ছেলে সোহেল মোল্লা এবং গুণহর গ্রামের হাফিজ মীনার ছেলে নিয়াজ মীনা।

এমন খবরে শোকে ভেঙে পড়ে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারগুলো। তাদের বাড়িতে ভিড় করতে থাকে স্বজন, প্রতিবেশী এবং সাধারণ মানুষ। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দালালচক্র প্রতারণা করে এলাকার অসহায় মানুষকে অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
ননীক্ষির ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর মোল্লা বলেন, “লাখ লাখ টাকা খরচ করে যুবকদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পরিবারগুলো জমি বিক্রি করে এই লোভনীয় প্রস্তাবে টাকা দেয়। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও ভালো উপার্জন আর উন্নত জীবনের জন্য এরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।”

 

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, “নিহত দুইজন ও নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চ পর্যায়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও সাগরপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা চলছেই বাংলাদেশিদের