সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নবনির্বাচিত পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান

আমি এক সময় বিজনেস ম্যান এন্ড পলিটিশিয়ান ছিলাম: টুকু

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নবনির্বাচিত পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান আমি এক সময় বিজনেস ম্যান এন্ড পলিটিশিয়ান ছিলাম: টুকু

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নব-নির্বাচিত পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান।

 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল আলোচনা, শপথ অনুষ্ঠান ও জাতীয় এবং স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

 

চেম্বার অব কমার্সের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ব্যবসা দিয়ে। আমি এক সময় বিজনেস ম্যান এন্ড পলিটিশিয়ান ছিলাম। এখন আমি ফুল পলিটিশিয়ান। আমি যখন ৭০ এর দশকে ব্যবসা করতে যাই, তখন বাংলাদেশে এত ব্যবসায়ী ছিল না। তখন আমি তরুণ ছিলাম, চ্যালেঞ্জিং কিছু না হলে আমার ভালো লাগতো না। আমার বাবা নিজে উকিল ছিলেন। তিনি আমাকে লইয়ার বানাতে চেয়েছিলেন। উনি অনেক চেষ্টা করেছেন, আমাকে বিলেতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমি ব্যারিষ্টার হইনি। আমি দেশে এসে বললাম আমি ব্যবসায়ী হবো।

 

১৯৭৭ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর ছিলাম। সুতরাং আমি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষ। আজকে এই যুগে প্রযুক্তির বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের সংজ্ঞাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন মানুষের চেয়ে প্রযুক্তির কর্মক্ষমতা বেশি। এআইকে কন্ট্রোল করার জন্য বিশ্ব চিন্তিত। এআই এমন জিনিস, সমাজ যদি ভালোভাবে ব্যবহার করতে চায় তাহলে ভালো হবে। আর সমাজ যদি খারাপ জিনিসের দিকে নিয়ে যায় তাহলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রযুক্তির যেমন আবিস্কার হচ্ছে, সাথে সাথে বর্তমান সভ্যতাও হুমকির মুখে পড়েছে। এখানে চেম্বার অব কমার্সের ভূমিকা কিন্তু বিশাল। আজকে পৃথিবীতে কোন কিছু টিকতে পারে না সেখানে যদি রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট না থাকে।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, চেম্বার অব কমার্স শুধু সোস্যাল ক্লাব বা আড্ডা দেওয়ার জায়গা নয়, এটি হচ্ছে পরিশীলিত ব্যবসায়ীদের সংগঠন। যেখানে ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা এবং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, ৫ আগষ্টের স্বৈরাচারি হাসিনা সরকারের পালিয়ে যাবার পর দেশে কোন সরকার ছিল না, আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল না, তখন ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান চালানোর সাহস পায়নি। আমি নিজে তাদের সঙ্গে কথা বলে সাহস যুগিয়েছি, সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করিয়েছি।

 

 

তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য উপযুক্ত স্থান এই সিরাজগঞ্জ। যার কারণে আমি সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছি। সিরাজগঞ্জে বেসরকারি ইকোনোমিক জোন রয়েছে, ৫ আগষ্টের পর সেটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেটা চালু করার কথা বলেছি। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ইকোনোমিক জোন চালু হলে সেখানে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সিরাজগঞ্জে সরকারি বিসিক শিল্পপার্ক হয়েছে। সেটিরও প্লট বরাদ্দ বন্ধ ছিল। আমি বিসিকের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহীদুল হাসান, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাকিল হায়দার রফিক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ তানহা প্রমূখ।

 

 

এ সময়  সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নব নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, আব্দুল কাদের, লিটন সাহা, পরিচালক হাজী আব্দুস সাত্তার, হাজী জুড়ান আলী, একাব্বর আলী, সন্তোষ কুমার কানু, জুয়েল হোসেন, শফিকুল ইসলাম জিন্না, তানভীর মাহমুদ পলাশ, প্রদীপ কুমার রায়, শরিফুল ইসলাম আলামিনসহ নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ এবং শহরের গণামান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নবনির্বাচিত পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান

আমি এক সময় বিজনেস ম্যান এন্ড পলিটিশিয়ান ছিলাম: টুকু

আপডেট টাইম : ০৮:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নব-নির্বাচিত পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান।

 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল আলোচনা, শপথ অনুষ্ঠান ও জাতীয় এবং স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

 

চেম্বার অব কমার্সের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ব্যবসা দিয়ে। আমি এক সময় বিজনেস ম্যান এন্ড পলিটিশিয়ান ছিলাম। এখন আমি ফুল পলিটিশিয়ান। আমি যখন ৭০ এর দশকে ব্যবসা করতে যাই, তখন বাংলাদেশে এত ব্যবসায়ী ছিল না। তখন আমি তরুণ ছিলাম, চ্যালেঞ্জিং কিছু না হলে আমার ভালো লাগতো না। আমার বাবা নিজে উকিল ছিলেন। তিনি আমাকে লইয়ার বানাতে চেয়েছিলেন। উনি অনেক চেষ্টা করেছেন, আমাকে বিলেতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমি ব্যারিষ্টার হইনি। আমি দেশে এসে বললাম আমি ব্যবসায়ী হবো।

 

১৯৭৭ সালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর ছিলাম। সুতরাং আমি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষ। আজকে এই যুগে প্রযুক্তির বিশাল পরিবর্তন হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের সংজ্ঞাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন মানুষের চেয়ে প্রযুক্তির কর্মক্ষমতা বেশি। এআইকে কন্ট্রোল করার জন্য বিশ্ব চিন্তিত। এআই এমন জিনিস, সমাজ যদি ভালোভাবে ব্যবহার করতে চায় তাহলে ভালো হবে। আর সমাজ যদি খারাপ জিনিসের দিকে নিয়ে যায় তাহলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রযুক্তির যেমন আবিস্কার হচ্ছে, সাথে সাথে বর্তমান সভ্যতাও হুমকির মুখে পড়েছে। এখানে চেম্বার অব কমার্সের ভূমিকা কিন্তু বিশাল। আজকে পৃথিবীতে কোন কিছু টিকতে পারে না সেখানে যদি রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট না থাকে।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, চেম্বার অব কমার্স শুধু সোস্যাল ক্লাব বা আড্ডা দেওয়ার জায়গা নয়, এটি হচ্ছে পরিশীলিত ব্যবসায়ীদের সংগঠন। যেখানে ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করা এবং নিজেদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করা।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, ৫ আগষ্টের স্বৈরাচারি হাসিনা সরকারের পালিয়ে যাবার পর দেশে কোন সরকার ছিল না, আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল না, তখন ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান চালানোর সাহস পায়নি। আমি নিজে তাদের সঙ্গে কথা বলে সাহস যুগিয়েছি, সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করিয়েছি।

 

 

তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য উপযুক্ত স্থান এই সিরাজগঞ্জ। যার কারণে আমি সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছি। সিরাজগঞ্জে বেসরকারি ইকোনোমিক জোন রয়েছে, ৫ আগষ্টের পর সেটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেটা চালু করার কথা বলেছি। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ইকোনোমিক জোন চালু হলে সেখানে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সিরাজগঞ্জে সরকারি বিসিক শিল্পপার্ক হয়েছে। সেটিরও প্লট বরাদ্দ বন্ধ ছিল। আমি বিসিকের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি।

 

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহীদুল হাসান, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাকিল হায়দার রফিক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ তানহা প্রমূখ।

 

 

এ সময়  সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের নব নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, আব্দুল কাদের, লিটন সাহা, পরিচালক হাজী আব্দুস সাত্তার, হাজী জুড়ান আলী, একাব্বর আলী, সন্তোষ কুমার কানু, জুয়েল হোসেন, শফিকুল ইসলাম জিন্না, তানভীর মাহমুদ পলাশ, প্রদীপ কুমার রায়, শরিফুল ইসলাম আলামিনসহ নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ এবং শহরের গণামান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।