সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাটের বেহাল দশা! জনদূর্ভোগ চরমে

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:১২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ১১৯ জন দেখেছেন

প্রতিবেদক, সলঙ্গা:
সিরাজগঞ্জের প্রাচীন ও বৃহত্তর রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাট। বৃটিশ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে এই সলঙ্গা হাটের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দেয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। ঐতিহ্যবাহী সেই হাটটির এখন বেহাল দশা। নানা অব্যবস্থাপনায় যানজট, অবৈধ দখল, জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধসহ জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই হাটটি।

সরেজমিনে জানা যায়, হাটের প্রবেশপথ স্লুইচ গেট ও মাদ্রাসা মোড় নতুন ব্রীজসহ গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোয় সারা বছরই লেগে থাকে যানজট। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোয় যানজটে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এদিকে বর্ষা মৌসুমে হালকা বৃষ্টি হলেই হাট ও এর আসেপাশে এলাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সৃণ্টি হয় ভয়ানক জলাবদ্ধতা। এতে স্যাতঁস্যাঁতে কাদা-পানি আর দুর্গন্ধের কারনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক বেচাকেনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিকমত বেচা-বিক্রি না করতে পারায় ক্ষু্ব্ধ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর উন্নয়ন বিমুখতার কারনে সলঙ্গা হাটের এমন অবস্থা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার বসে সলঙ্গা হাট। বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকা ও পানি নিস্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় স্লু্ুইস গেটের নিচে নদীতে হাটের ময়লা- আবর্জনা ফেলা হয়।স্লুইস গেটে মুরগী পট্রি,মাছ পট্রিসহ অন্য স্থানের ময়লা- আবর্জনা জমে থাকায় বিকট দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। এতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মাছ পট্রির নোংরা পানি ও মুরগীর বিষ্টার কারনে আসপাশের দোকানি ও বাড়ির মালিকদের টেকা দায়। বর্ষা মৌসুমে কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে কদমতলা তরকারী হাটাসহ হাটের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে।

পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।আবার সপ্তাহের সোমবারে গরু হাটায় কাদা জমে থাকে।সামান্য বৃষ্টি হলেই ডিমহাটা হতে গুড়হাটা পর্যন্ত পানিতে একাকার হয়ে যায়।মাংশ পট্রি- জুতাহাটা হতে উত্তরে তরকারি হাটার পুরো পাকা রাস্তাটাই স্যাঁতস্যাঁতে কাদা পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী জুয়েল, হানিফসহ অন্যরা বলেন, তরকারি হাটার রাস্তায় স্যাঁতস্যাঁতে কাদা পানিতে চলাচল করা দায়। বছরের পর বছর আমরা এভাবে কষ্ট ভোগ করছি। আবার কাদা-পানি থাকার কারনে বর্ষাকালে আমাদের ক্রেতা অনেকটাই কমে যায়।সলঙ্গা বণিক সমিতির নেতারা জানান, গরু- ছাগল ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রাচীনতম হাট সলঙ্গা। প্রতি বছর সরকার রাজস্ব আয় করলেও হাটের উন্নয়নে তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হাট ইজারাদার মতিয়ার রহমান সরকার বলেন,আমি হাট ইজারাদারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাটের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন,সলঙ্গা হাটের বিভিন্ন সমস্যাগুলোর বিষয়ে অবগত হয়েছি।পর্যায়ক্রমে সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাটের বেহাল দশা! জনদূর্ভোগ চরমে

আপডেট টাইম : ০৮:১২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

প্রতিবেদক, সলঙ্গা:
সিরাজগঞ্জের প্রাচীন ও বৃহত্তর রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাট। বৃটিশ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে এই সলঙ্গা হাটের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দেয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। ঐতিহ্যবাহী সেই হাটটির এখন বেহাল দশা। নানা অব্যবস্থাপনায় যানজট, অবৈধ দখল, জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধসহ জর্জরিত হয়ে পড়েছে এই হাটটি।

সরেজমিনে জানা যায়, হাটের প্রবেশপথ স্লুইচ গেট ও মাদ্রাসা মোড় নতুন ব্রীজসহ গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোয় সারা বছরই লেগে থাকে যানজট। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোয় যানজটে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এদিকে বর্ষা মৌসুমে হালকা বৃষ্টি হলেই হাট ও এর আসেপাশে এলাকায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সৃণ্টি হয় ভয়ানক জলাবদ্ধতা। এতে স্যাতঁস্যাঁতে কাদা-পানি আর দুর্গন্ধের কারনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাভাবিক বেচাকেনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিকমত বেচা-বিক্রি না করতে পারায় ক্ষু্ব্ধ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর উন্নয়ন বিমুখতার কারনে সলঙ্গা হাটের এমন অবস্থা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার বসে সলঙ্গা হাট। বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকা ও পানি নিস্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় স্লু্ুইস গেটের নিচে নদীতে হাটের ময়লা- আবর্জনা ফেলা হয়।স্লুইস গেটে মুরগী পট্রি,মাছ পট্রিসহ অন্য স্থানের ময়লা- আবর্জনা জমে থাকায় বিকট দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। এতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মাছ পট্রির নোংরা পানি ও মুরগীর বিষ্টার কারনে আসপাশের দোকানি ও বাড়ির মালিকদের টেকা দায়। বর্ষা মৌসুমে কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে কদমতলা তরকারী হাটাসহ হাটের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকে।

পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।আবার সপ্তাহের সোমবারে গরু হাটায় কাদা জমে থাকে।সামান্য বৃষ্টি হলেই ডিমহাটা হতে গুড়হাটা পর্যন্ত পানিতে একাকার হয়ে যায়।মাংশ পট্রি- জুতাহাটা হতে উত্তরে তরকারি হাটার পুরো পাকা রাস্তাটাই স্যাঁতস্যাঁতে কাদা পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী জুয়েল, হানিফসহ অন্যরা বলেন, তরকারি হাটার রাস্তায় স্যাঁতস্যাঁতে কাদা পানিতে চলাচল করা দায়। বছরের পর বছর আমরা এভাবে কষ্ট ভোগ করছি। আবার কাদা-পানি থাকার কারনে বর্ষাকালে আমাদের ক্রেতা অনেকটাই কমে যায়।সলঙ্গা বণিক সমিতির নেতারা জানান, গরু- ছাগল ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রির প্রাচীনতম হাট সলঙ্গা। প্রতি বছর সরকার রাজস্ব আয় করলেও হাটের উন্নয়নে তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হাট ইজারাদার মতিয়ার রহমান সরকার বলেন,আমি হাট ইজারাদারের দায়িত্ব নেওয়ার পর হাটের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন,সলঙ্গা হাটের বিভিন্ন সমস্যাগুলোর বিষয়ে অবগত হয়েছি।পর্যায়ক্রমে সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।