সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কবরস্থান-মাদ্রাসার উন্নয়নে কোটি টাকার সম্পত্তি দানের ঘোষনা অধ্যক্ষ মাসুদ রানা ওয়াসিমের

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল কবরস্থান এবং মরহুম আব্দুস সামাদ ও ইলহাম মুহাম্মাদ স্মরনীয় কওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সম্প্রসারনে কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দানের ঘোষনা দিলেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা ওয়াসিম।

 

গত রোববার ওই মাদ্রাসা ও ঈদগা ময়দানে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে তিনি এই ঘোষনা দেন। আল্লহ তালার সন্তুষ্টি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামী দ্বীন শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষে তিনি এই সম্পদ দানের সিদ্ধান্ত নেন।

 

জানাযায়, রবিবার শিয়ালকোল যুব সমাজের উদ্যোগে ১৫তম বার্ষিক ওয়াজ মহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং মরহুম আব্দুস সামাদ ও ইলহাম মুহাম্মাদ স্মরনীয় কওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মাছুদ রানা ওয়াসিম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষনা দেন। মহান আল্লহ তালার সন্তুষ্টি এবং নিজ গ্রাম ও পাশ্ববর্তী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইসলামী দ্বীন শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষে তার পরিবারের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেবার জন্য তিনি কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতক ভূমি কবরস্থান ও মাদ্রাসা সম্প্রসারণের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত জানান। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার উপরে।

 

স্থানীয়রা জানান, মাছুদ রানা ওয়াসিমের পিতা মরহুম আব্দুস সামাদ ও তার পূর্ব পুরুষগণ শিয়ালকোল কবরস্থান স্থাপন, ঈদগা মাঠ স্থাপন, মাদ্রাসা স্থাপন এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রায় দুই একর জমি দান করেন। ধর্মীয় ও জনকল্যাণ এই পরিবার নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

মাছুদ রানা ওয়াসিম জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং তার মায়ের পরামর্শক্রমে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরো বলেন, দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার বাসা বেঁধেছে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার আদেশ-নিষেধ উপেক্ষা করে নানা অপারাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক কঠোর নিষিদ্ধ কাজ গুলোকেও মানুষ ধর্মীয় কাজ মনে করে। এ থেকে রক্ষার জন্য এজন্য ইসলামী শিক্ষা জরুরী। ইসলামের উদারতা ও মুল্যবোধ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই সামাজিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

জলসায় বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুড সেফটি অফিসার মোঃ মুনজুর আলম কমল।

প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন হাফেজ মওলানা শায়েখ মুতাসিম বিল্লাহ (কুষ্টিয়া), অন্যান্যদের মধ্যে বয়ান করেন, হযরত মাওলানা মোঃ শফিউর রহমান রহমান, হযরত মাওলানা মোঃ মোশারফ হোসেন এবং মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মসজিদের ইমাম মো: ইমান আলী।

অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, মো: আব্দুস ছালাম টুপা সরকার, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী আনছার আলী, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি মোঃ জাফর আলী সেখ, আশা এনজিওর শিয়ালকোল শাখার ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান সেখ প্রমূখ। সুন্দও ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য অতিথিরা যুব সমাজকে ধন্যবাদ জনান। পরে মুসলিম উম্মার শান্তি ও মৃত ব্যক্তিদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কবরস্থান-মাদ্রাসার উন্নয়নে কোটি টাকার সম্পত্তি দানের ঘোষনা অধ্যক্ষ মাসুদ রানা ওয়াসিমের

আপডেট টাইম : ০৮:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল কবরস্থান এবং মরহুম আব্দুস সামাদ ও ইলহাম মুহাম্মাদ স্মরনীয় কওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসা সম্প্রসারনে কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি দানের ঘোষনা দিলেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা ওয়াসিম।

 

গত রোববার ওই মাদ্রাসা ও ঈদগা ময়দানে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে তিনি এই ঘোষনা দেন। আল্লহ তালার সন্তুষ্টি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামী দ্বীন শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষে তিনি এই সম্পদ দানের সিদ্ধান্ত নেন।

 

জানাযায়, রবিবার শিয়ালকোল যুব সমাজের উদ্যোগে ১৫তম বার্ষিক ওয়াজ মহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং মরহুম আব্দুস সামাদ ও ইলহাম মুহাম্মাদ স্মরনীয় কওমী হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মাছুদ রানা ওয়াসিম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষনা দেন। মহান আল্লহ তালার সন্তুষ্টি এবং নিজ গ্রাম ও পাশ্ববর্তী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইসলামী দ্বীন শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষে তার পরিবারের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেবার জন্য তিনি কোটি টাকা মূল্যের ২০ শতক ভূমি কবরস্থান ও মাদ্রাসা সম্প্রসারণের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত জানান। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার উপরে।

 

স্থানীয়রা জানান, মাছুদ রানা ওয়াসিমের পিতা মরহুম আব্দুস সামাদ ও তার পূর্ব পুরুষগণ শিয়ালকোল কবরস্থান স্থাপন, ঈদগা মাঠ স্থাপন, মাদ্রাসা স্থাপন এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রায় দুই একর জমি দান করেন। ধর্মীয় ও জনকল্যাণ এই পরিবার নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

মাছুদ রানা ওয়াসিম জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং তার মায়ের পরামর্শক্রমে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরো বলেন, দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার বাসা বেঁধেছে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার আদেশ-নিষেধ উপেক্ষা করে নানা অপারাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। এমনকি সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক কঠোর নিষিদ্ধ কাজ গুলোকেও মানুষ ধর্মীয় কাজ মনে করে। এ থেকে রক্ষার জন্য এজন্য ইসলামী শিক্ষা জরুরী। ইসলামের উদারতা ও মুল্যবোধ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই সামাজিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

জলসায় বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ফুড সেফটি অফিসার মোঃ মুনজুর আলম কমল।

প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন হাফেজ মওলানা শায়েখ মুতাসিম বিল্লাহ (কুষ্টিয়া), অন্যান্যদের মধ্যে বয়ান করেন, হযরত মাওলানা মোঃ শফিউর রহমান রহমান, হযরত মাওলানা মোঃ মোশারফ হোসেন এবং মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মসজিদের ইমাম মো: ইমান আলী।

অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, মো: আব্দুস ছালাম টুপা সরকার, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী আনছার আলী, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি মোঃ জাফর আলী সেখ, আশা এনজিওর শিয়ালকোল শাখার ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান সেখ প্রমূখ। সুন্দও ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য অতিথিরা যুব সমাজকে ধন্যবাদ জনান। পরে মুসলিম উম্মার শান্তি ও মৃত ব্যক্তিদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।