সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কবিরাজি চিকিৎসার নামে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন মাদ্রাসা প্রভাষক

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১১:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪১৪ জন দেখেছেন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি ‘রফাদফা’ করা হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা এমরান হোসেন চাকরির পাশাপাশি কালাই উপজেলার এলতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি ও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন।

এলতা গ্রামের এক তরুণী তার কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন প্রভাষক এমরান হোসেন। এসব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তিনি মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। সম্প্রতি বিয়ের দাবি তোলায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মোলামগাড়ীহাট এলাকায় তরুণীর সঙ্গে দেখা হলে জোরপূর্বক তাকে সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে রাতে তরুণীকে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেন এমরান হোসেন। শনিবার দুপুরে তিনি তরুণীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে দেড় লাখ টাকায় পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তরুণীর মামা রুবেল হোসেন জানান, আমার ভাগ্নী অসুস্থ থাকায় কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছিল। আমরা ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি আপোষে মিটিয়ে দেওয়া হয়।

প্রভাষক মাওলানা এমরান হোসেন বলেন, আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম ঠিকই, তবে কোনো খারাপ কাজ করিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তারা ইতোমধ্যেই দেড় লাখ টাকায় সমঝোতায় পৌঁছেছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করেছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কবিরাজি চিকিৎসার নামে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন মাদ্রাসা প্রভাষক

আপডেট টাইম : ১১:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জয়পুরহাট প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা প্রভাষকের বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি ‘রফাদফা’ করা হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা এমরান হোসেন চাকরির পাশাপাশি কালাই উপজেলার এলতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি ও কবিরাজি চিকিৎসা করতেন।

এলতা গ্রামের এক তরুণী তার কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন প্রভাষক এমরান হোসেন। এসব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তিনি মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। সম্প্রতি বিয়ের দাবি তোলায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে মোলামগাড়ীহাট এলাকায় তরুণীর সঙ্গে দেখা হলে জোরপূর্বক তাকে সিএনজিতে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে রাতে তরুণীকে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেন এমরান হোসেন। শনিবার দুপুরে তিনি তরুণীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে দেড় লাখ টাকায় পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তরুণীর মামা রুবেল হোসেন জানান, আমার ভাগ্নী অসুস্থ থাকায় কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছিল। আমরা ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি আপোষে মিটিয়ে দেওয়া হয়।

প্রভাষক মাওলানা এমরান হোসেন বলেন, আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম ঠিকই, তবে কোনো খারাপ কাজ করিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তারা ইতোমধ্যেই দেড় লাখ টাকায় সমঝোতায় পৌঁছেছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করেছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।