সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কামারখন্দে জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে আগুন

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ের আগুনের ঘটনায় ঘরের চারিদিকের বেড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মুদি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জামায়াত ইসলামী স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, গতকাল রাতে আমরা অনেক সময় পর্যন্ত এখানে ছিলাম। আমরা চলে যাবার পর কেউ পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা মনে করি আগুন দেয়ার ঘটনায় জামায়াত ইসলামীর কোনো ক্ষতি হয়নি বরং আমাদের প্রতি সাধারন মানুষের ভালোবাসা আরো বেড়েছে। তাঁরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।

 

 

সকালে সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির ইউসুফ আলী বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের এই অফিসে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। গতকাল রাত বারোটা পর্যন্ত আমাদের এই অফিসে দায়িত্বরত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ছিলেন । কিন্তু বারোটার পরে কে বা কারা জানিনা দুর্বৃত্তরা আমাদের এই অফিসের চারদিকে যে বেড়া এবং আসবাবপত্র ছিল আগুন দিয়ে পুড়ায়া দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেখানে জনগণের মন যে জয় করতে পারবে জনগণ যাকে ভোট দিবেন তারাই আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু আমাদের বন্ধু প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন রয়েছেন তাদের কিছু ব্যক্তিরা আমাদের নির্বাচনে হুমকি-ধুমকি এবং নির্বাচনে যেন কার্যক্রমে পরিচালনা করতে না পারি কেউ যেন ভোট চাইতে যেতে না পারি, ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে না পারি, সেন্টারের জন্য এজেন্ট না থাকতে পারে এর জন্য যা দরকার সেটা তারা করছেন। গত রাত্রে যে কাজটি হয়েছে এমনকি এই নেক্কারজনক কাজ আমাদের নির্বাচনী অফিস তারা আগুন দিয়ে জ্বালায়া দিছে আমরা মনে করি। আমরা উপজেলার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে আহবান করব যারা এই সমস্ত দুর্বৃত্ত যে সকল ব্যক্তিরা আমাদের নির্বাচনে অফিস আগুন দিয়ে জ্বালায়া দিয়েছেন তাদের কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন আমরা এটাই প্রত্যাশা রাখি।

 

 

ঘটনা প্রত্যক্ষ ভাবে পরিদর্শন করা শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখানে জামায়াত ইসলামীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প আছে সেই ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসলাম এবং এসে এই ঘটনার সত্যতা পেলাম। এখানে পাশেই বিএনপি নির্বাচনের ক্যাম্প যিনি পরিচালনা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য তার সাথেও কথা বললাম তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এখানে সংশ্লিষ্ট যতগুলো পলিটিক্যাল পার্টি আছেন সবাইকে আমি সতর্ক করেছি আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কোনক্রমেই নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করা যাবে না এবং এই ধরনের ঘটনা যেটা সম্পূর্ণ আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছি। আমরা এই ঘটনা রিটার্নিং অফিসারকে রিপোর্ট করবো এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।

84
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কামারখন্দে জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে আগুন

আপডেট টাইম : ১১:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ের আগুনের ঘটনায় ঘরের চারিদিকের বেড়া পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মুদি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

 

জামায়াত ইসলামী স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, গতকাল রাতে আমরা অনেক সময় পর্যন্ত এখানে ছিলাম। আমরা চলে যাবার পর কেউ পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা মনে করি আগুন দেয়ার ঘটনায় জামায়াত ইসলামীর কোনো ক্ষতি হয়নি বরং আমাদের প্রতি সাধারন মানুষের ভালোবাসা আরো বেড়েছে। তাঁরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।

 

 

সকালে সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির ইউসুফ আলী বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আমাদের এই অফিসে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। গতকাল রাত বারোটা পর্যন্ত আমাদের এই অফিসে দায়িত্বরত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ছিলেন । কিন্তু বারোটার পরে কে বা কারা জানিনা দুর্বৃত্তরা আমাদের এই অফিসের চারদিকে যে বেড়া এবং আসবাবপত্র ছিল আগুন দিয়ে পুড়ায়া দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেখানে জনগণের মন যে জয় করতে পারবে জনগণ যাকে ভোট দিবেন তারাই আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু আমাদের বন্ধু প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন রয়েছেন তাদের কিছু ব্যক্তিরা আমাদের নির্বাচনে হুমকি-ধুমকি এবং নির্বাচনে যেন কার্যক্রমে পরিচালনা করতে না পারি কেউ যেন ভোট চাইতে যেতে না পারি, ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে না পারি, সেন্টারের জন্য এজেন্ট না থাকতে পারে এর জন্য যা দরকার সেটা তারা করছেন। গত রাত্রে যে কাজটি হয়েছে এমনকি এই নেক্কারজনক কাজ আমাদের নির্বাচনী অফিস তারা আগুন দিয়ে জ্বালায়া দিছে আমরা মনে করি। আমরা উপজেলার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সরকারের কাছে আহবান করব যারা এই সমস্ত দুর্বৃত্ত যে সকল ব্যক্তিরা আমাদের নির্বাচনে অফিস আগুন দিয়ে জ্বালায়া দিয়েছেন তাদের কে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন আমরা এটাই প্রত্যাশা রাখি।

 

 

ঘটনা প্রত্যক্ষ ভাবে পরিদর্শন করা শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখানে জামায়াত ইসলামীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প আছে সেই ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসলাম এবং এসে এই ঘটনার সত্যতা পেলাম। এখানে পাশেই বিএনপি নির্বাচনের ক্যাম্প যিনি পরিচালনা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য তার সাথেও কথা বললাম তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এখানে সংশ্লিষ্ট যতগুলো পলিটিক্যাল পার্টি আছেন সবাইকে আমি সতর্ক করেছি আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কোনক্রমেই নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করা যাবে না এবং এই ধরনের ঘটনা যেটা সম্পূর্ণ আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছি। আমরা এই ঘটনা রিটার্নিং অফিসারকে রিপোর্ট করবো এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।