সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও যাবজ্জীবন সাজা !

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:২২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৮ জন দেখেছেন

প্রতিবেদক, শাহজাদপুর। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির হোসেন (২০) হত্যা মামলায় ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ২ আসামীর পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৌর সদরের মনিরামপুর বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ আসামী মোঃ আঃ সামাদ ও মোঃ ইদ্রিস আলীকে নির্দোষ দাবী করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোঃ ইমরান আলী জানান, ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট ওয়াজ আলীর মেয়ে শিউলী সাথে মোবাইল কথা বলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মারামারিতে ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির হোসেন নিহত হয়। কিন্তু ঘটনার দিন তার বাবা পার্শবর্তী জেলা পাবনায় আত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করলেও মোঃ আঃ সামাদ বিএনপি’র পোতাজিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে তাকে সাব্বির হত্যা মামলার ২৭ নং আসামী করা হয়। শুধুমাত্র বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তৎকালীন সময়ে প্রতিপক্ষ প্রভাব বিস্তার করে উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহন না করে ভূয়া স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জসীট আদালতে প্রেরণ করে। এরপর ঐ স্বাক্ষীরা বিবাদীদের সাথে কথা বলার সময় আব্দুস সামাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে পরিকল্পিত ভাবে বানোয়াট স্বাক্ষ্য দেয়।

অপরদিকে মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, তার বাবা মোঃ ইদ্রিস আলী শাহজাদপুর মওলানা ছাইফ উদ্দিন এহিয়া ডিগ্রী কলেজের পিয়ন পদে কর্মরত আছেন। প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিনও তিনি সকালে কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে যান এবং সেদিন তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন যা উক্ত তারিখের কলেজ কর্মচারী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর আছে। তারপরও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় তাকে সাব্বির হত্যা মামলায় ৬ নং আসামী করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দ-প্রাপ্ত দুই আসামীর দুই ছেলে আরও বলেন, ছাত্রলীগকর্মী সাব্বির হত্যার রায়ে দুজন নির্দোষকে ফাঁসিয়ে দেওয়ায় ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সময় উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নিয়ে মামলা পুণঃতদন্ত করে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পোতাজিয়ায় ছাত্রলীগকর্মী সাব্বির হত্যা মামলায় ১৩ বছর পর ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও একই মামলায় আরও আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- প্রদান করে আদালত। গত ২৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক কানিজ ফাতেমা এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা অন্য আসামীরা হলেন-শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের ওয়াজ আলী, তার ছেলে সেলিম রেজা, কুন্নু, হামিদ এবং তার ভাই আরশেদ আলী।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও যাবজ্জীবন সাজা !

আপডেট টাইম : ০৭:২২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

প্রতিবেদক, শাহজাদপুর। জনতার কণ্ঠ.কম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির হোসেন (২০) হত্যা মামলায় ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ২ আসামীর পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পৌর সদরের মনিরামপুর বাজারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ আসামী মোঃ আঃ সামাদ ও মোঃ ইদ্রিস আলীকে নির্দোষ দাবী করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোঃ ইমরান আলী জানান, ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট ওয়াজ আলীর মেয়ে শিউলী সাথে মোবাইল কথা বলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মারামারিতে ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির হোসেন নিহত হয়। কিন্তু ঘটনার দিন তার বাবা পার্শবর্তী জেলা পাবনায় আত্মীয় বাড়িতে অবস্থান করলেও মোঃ আঃ সামাদ বিএনপি’র পোতাজিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে তাকে সাব্বির হত্যা মামলার ২৭ নং আসামী করা হয়। শুধুমাত্র বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তৎকালীন সময়ে প্রতিপক্ষ প্রভাব বিস্তার করে উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহন না করে ভূয়া স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জসীট আদালতে প্রেরণ করে। এরপর ঐ স্বাক্ষীরা বিবাদীদের সাথে কথা বলার সময় আব্দুস সামাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার কথা স্বীকার করলেও আদালতে পরিকল্পিত ভাবে বানোয়াট স্বাক্ষ্য দেয়।

অপরদিকে মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, তার বাবা মোঃ ইদ্রিস আলী শাহজাদপুর মওলানা ছাইফ উদ্দিন এহিয়া ডিগ্রী কলেজের পিয়ন পদে কর্মরত আছেন। প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিনও তিনি সকালে কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়ে যান এবং সেদিন তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন যা উক্ত তারিখের কলেজ কর্মচারী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর আছে। তারপরও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় তাকে সাব্বির হত্যা মামলায় ৬ নং আসামী করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দ-প্রাপ্ত দুই আসামীর দুই ছেলে আরও বলেন, ছাত্রলীগকর্মী সাব্বির হত্যার রায়ে দুজন নির্দোষকে ফাঁসিয়ে দেওয়ায় ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সময় উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য নিয়ে মামলা পুণঃতদন্ত করে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তারা ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পোতাজিয়ায় ছাত্রলীগকর্মী সাব্বির হত্যা মামলায় ১৩ বছর পর ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও একই মামলায় আরও আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- প্রদান করে আদালত। গত ২৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক কানিজ ফাতেমা এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা অন্য আসামীরা হলেন-শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের ওয়াজ আলী, তার ছেলে সেলিম রেজা, কুন্নু, হামিদ এবং তার ভাই আরশেদ আলী।