সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন, চাটখিলে চাঞ্চল্য

জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন, চাটখিলে চাঞ্চল্য

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত ইমতিয়াজ হোসেনের (২২) লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ালী ব্যাপারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়।
উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানা থেকে লুট হওয়া একটি অস্ত্র বহন করতে গিয়ে আত্মঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইমতিয়াজ হোসেন। পরে তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
ইমতিয়াজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তার ছেলেকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন এবং বিভিন্ন সূত্রে আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ইমতিয়াজের নাম শহীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
এদিকে, ইমতিয়াজের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তার বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের ৫৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাটখিল এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজিই ছিল মামলার মূল উদ্দেশ্য। পরে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইমতিয়াজের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পেলে মামলাটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।
সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের মৃত্যুর ঘটনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চাটখিলেও ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন করা হলো।
ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন, চাটখিলে চাঞ্চল্য

আপডেট টাইম : ০৮:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত ইমতিয়াজ হোসেনের (২২) লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ালী ব্যাপারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়।
উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানা থেকে লুট হওয়া একটি অস্ত্র বহন করতে গিয়ে আত্মঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইমতিয়াজ হোসেন। পরে তাকে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
ইমতিয়াজের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান তার ছেলেকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন এবং বিভিন্ন সূত্রে আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে ইমতিয়াজের নাম শহীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
এদিকে, ইমতিয়াজের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তার বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের ৫৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাটখিল এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজিই ছিল মামলার মূল উদ্দেশ্য। পরে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইমতিয়াজের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পেলে মামলাটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।
সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের মৃত্যুর ঘটনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চাটখিলেও ইমতিয়াজের লাশ উত্তোলন করা হলো।
ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।