সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টাকাসহ দুই জামায়াত নেতা আটক: ধাওয়া খেলেন আরেক নেতা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ৭১ হাজার টাকাসহ জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, আটক জামায়াতের নেতারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছিলেন। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, ওটা ছিল এজেন্ট খরচের টাকা। একই উপজেলায় অপর এক ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে দৌঁড়ে পালিয়েছেন জামায়াতের আরও এক নেতা। এ দুটি ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এদিকে টাকা উদ্ধারের পরিমণে গড়মিলসহ বেশ কিছু কনফিউশন থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতে বিষয়টি সুরাহা হয়নি। এ ঘটনায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।

 

বুধবার (১১ ফেব্রুযারি) সকালে কামারখন্দ উপজেলার রায় দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ি গ্রামে ওই টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আব্দুল মমিন ও রোকন নূরে আলমকে বুধবার সকালে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে বিএনপি-নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে কামারখন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম ঘটনাস্থলে যায়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ওখানে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন স্বীকার করেছে তাদের কাছে টাকা ছিল। তারা দাবী করেছে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনের খাবার খরচ হিসেবে ওই টাকা ছিল। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কনফিউশন রয়েছে। জামায়াত নেতারা দাবি করছেন সেখানে ২ লাখ টাকা ছিল। কিন্তু আমরা অনস্পটে ৭১ হাজার টাকা পেয়েছি। জামায়াতের লোকজন বলছে বিএনপির যারা আটক করেছে, বাকি টাকা তারা নিয়ে গেছে।

 

বিষয়টি মোবাইল কোর্টে প্রসিডিউরে যাওয়ার জন্য সন্দেহাতীতভাবে বিষয়টা প্রমাণ হয় নাই। এখানে কনফিউশন আছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

অপরদিকে ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে ভোট কেনার জন্য টাকা দেওয়ার সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাহার আলী ধাওয়া করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সংক্রান্ত ভাইরাল

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই জামায়াত নেতা মোস্তাহার আলী একজনকে টাকা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মূহুর্তে সেখানে গিয়ে কিছু লোকজন তার ভিডিও করতে থাকে। টের পেয়ে মোস্তাক সরকার দৌড়ে পালাতে থাকেন। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত ওই জামায়াত নেতা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা একটা পরিকল্পিত ঘটনা। পোলিং এজেন্টদের খাওয়া খরচ রয়েছে। জামায়াতের নেতারা যতসামান্য টাকাসহ সেন্টার খরচ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। এ সময় মব সৃষ্টি করে তাকে ঘেরাও করে আটক করেছে। সেন্টার খরচটা কি প্রশাসন দেবে? নাকি আপনারা সাংবাদিক ভাইরা দেবেন? এমাউন্ট দেখে বুঝবে না এটা ভোট কেনার টাকা নাকি সেন্টার খরচের টাকা।

 

অপরদিকে ময়নাকান্দিতে নিরীহ মানুষ একজন গেছে। তাকে দেখে বলে এই যে ভোট কিনতে এসেছে। বলেই ভিডিও করা শুরু করেছে। সে ওখান থেকে চলে গেল। এখন ওই ভিডিওই ফেসবুকে দিয়ে বলছে, ভোট কেনার জন্য আসছে।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন,  জামায়াতের নেতারা কামারখন্দসহ বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। সাধারণ ভোটারদেরকেও তারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মূলত তারা নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে বলে দাবী করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।

76
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাকাসহ দুই জামায়াত নেতা আটক: ধাওয়া খেলেন আরেক নেতা

আপডেট টাইম : ০৮:০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ৭১ হাজার টাকাসহ জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, আটক জামায়াতের নেতারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছিলেন। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, ওটা ছিল এজেন্ট খরচের টাকা। একই উপজেলায় অপর এক ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে দৌঁড়ে পালিয়েছেন জামায়াতের আরও এক নেতা। এ দুটি ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এদিকে টাকা উদ্ধারের পরিমণে গড়মিলসহ বেশ কিছু কনফিউশন থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতে বিষয়টি সুরাহা হয়নি। এ ঘটনায় একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।

 

বুধবার (১১ ফেব্রুযারি) সকালে কামারখন্দ উপজেলার রায় দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ি গ্রামে ওই টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আব্দুল মমিন ও রোকন নূরে আলমকে বুধবার সকালে ৭১ হাজার টাকাসহ আটক করে বিএনপি-নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে কামারখন্দ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম ঘটনাস্থলে যায়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ওখানে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন স্বীকার করেছে তাদের কাছে টাকা ছিল। তারা দাবী করেছে পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনের খাবার খরচ হিসেবে ওই টাকা ছিল। সেখানে টাকার পরিমাণ নিয়ে কনফিউশন রয়েছে। জামায়াত নেতারা দাবি করছেন সেখানে ২ লাখ টাকা ছিল। কিন্তু আমরা অনস্পটে ৭১ হাজার টাকা পেয়েছি। জামায়াতের লোকজন বলছে বিএনপির যারা আটক করেছে, বাকি টাকা তারা নিয়ে গেছে।

 

বিষয়টি মোবাইল কোর্টে প্রসিডিউরে যাওয়ার জন্য সন্দেহাতীতভাবে বিষয়টা প্রমাণ হয় নাই। এখানে কনফিউশন আছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

অপরদিকে ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে ভোট কেনার জন্য টাকা দেওয়ার সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাহার আলী ধাওয়া করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সংক্রান্ত ভাইরাল

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই জামায়াত নেতা মোস্তাহার আলী একজনকে টাকা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মূহুর্তে সেখানে গিয়ে কিছু লোকজন তার ভিডিও করতে থাকে। টের পেয়ে মোস্তাক সরকার দৌড়ে পালাতে থাকেন। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করে। কিন্ত শেষ পর্যন্ত ওই জামায়াত নেতা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা একটা পরিকল্পিত ঘটনা। পোলিং এজেন্টদের খাওয়া খরচ রয়েছে। জামায়াতের নেতারা যতসামান্য টাকাসহ সেন্টার খরচ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। এ সময় মব সৃষ্টি করে তাকে ঘেরাও করে আটক করেছে। সেন্টার খরচটা কি প্রশাসন দেবে? নাকি আপনারা সাংবাদিক ভাইরা দেবেন? এমাউন্ট দেখে বুঝবে না এটা ভোট কেনার টাকা নাকি সেন্টার খরচের টাকা।

 

অপরদিকে ময়নাকান্দিতে নিরীহ মানুষ একজন গেছে। তাকে দেখে বলে এই যে ভোট কিনতে এসেছে। বলেই ভিডিও করা শুরু করেছে। সে ওখান থেকে চলে গেল। এখন ওই ভিডিওই ফেসবুকে দিয়ে বলছে, ভোট কেনার জন্য আসছে।

 

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন,  জামায়াতের নেতারা কামারখন্দসহ বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। সাধারণ ভোটারদেরকেও তারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মূলত তারা নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে বলে দাবী করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তিনি।