নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ১২ বছরের এক প্রতিবন্ধী বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাল মন্ডল (৫০) নামে তার দুঃসম্পর্কের এক মামার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) মামলাটি দায়ের হয়ে বলে জানিয়েছেন বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। আসামি দুলাল মন্ডল বেলকুচির সেন ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহল বাদীর পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ওই বালিকার স্বজনেরা জানান, বাবা-মা হতদরিদ্র হওয়ায় নানা-নানীর কাছে থাকতো প্রতিবন্ধী ওই বালিকা। দুলাল মন্ডল একজন মনোহারি দোকানদার। তিনি নির্যাতিত বালিকার দুঃসম্পর্কের মামা হন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর (রোববার) ওই বালিকা দুলালের দোকানে গেলে তাকে কৌশলে পেছনের ঘরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বালিকার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের দাগও দেখা যায়। এ কথা কাউকে জানালে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দেনদরবার করে দ্রুত এটি ধামাচাপা দিতে বালিকার নানা-নানীকে চাপ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন জানান, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গ্রামের কিছু মাতব্বর মামলা করার উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালী মহল বাধা দেয়।
ধর্ষক দুলাল মন্ডলের ভাই আইয়ুব আলী নির্যাতিত বালিকার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এখনো চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে মেয়ের মা-বাবা মেয়েকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরক্ত চিকিৎসক তাকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর থানায় মামলা দায়ের হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে দুলাল মন্ডল এলাকার প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় প্রথমে বিষয়টি টাকা দিয়ে মিটমাটের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। অভিযুক্তের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে।

রিপোর্টার: 



















