সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুধকুশি চাষে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনলেন আয়নাল ফকির

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৭৭ জন দেখেছেন

দুধকুশি চাষে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনলেন আয়নাল ফকির।

এস,এম তফিজ উদ্দিন:
সিরাজগঞ্জের দরিদ্র কৃষক আয়নাল ফকির (৪০) দম্পত্তি জমি লিজ নিয়ে দুধকুশি পল্লার (পেইনা পল্লা, কালা পল্লা) সবজি বাগান চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন। বাজারে এ সবজির দাম ভালো থাকায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। ইতিমধ্যেই তার পরিবারের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার শয্যভান্ডার খ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের আয়নাল ফকিরের নিজস্ব জমিজমা ও বসতবাড়ি নেই। তিনি প্রায় ২০ বছর আগে একই এলাকার শিল্পী বেগমকে বিয়ে করেন এবং শ্বশুর বাড়িতেই দোচালা টিনের ঘরে বসবাস করেন। এ বিয়ের পর থেকে ওই দম্পত্তি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, স্বামী দিনমজুরের কাজ করে দুঃখ কষ্টের সংসার চলছিল।

এমতবস্থায় তার ঘরে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এতে সংসারে আরো অভাব অনটন বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের পরামর্শে এ অভাব লাঘবে একই গ্রামের কবির বিএসসির প্রায় ২৫ শতাংশ ফসলি জমি লিজ নেয়া হয়। প্রতি বছরে ৯ হাজার টাকায় এ জমি লিজ নিয়ে কয়েক বছর ধরে এ সবজি চাষ করা হচ্ছে।

এ বছর জমিতে টমেটোসহ অনান্য সবজি চাষ করা হয় এবং টমেটো চাষ পরবর্তীতে প্রায় আড়াই মাস আগে দুধকুশি পল্লার (পেইনা পল্লা, কালা পল্লা) বীজ রোপণ করা হয়। আয়নাল দম্পত্তি এ বাগান পরিচর্যা করছেন। এবার এ সবজির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে হাইব্রিড জাতের এ ধুতকুশি পল্লা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ সবজির বাগান থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী দামে প্রতিকেজি পল্লা ৪০/৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে এবং তারা স্থানীয় হাট বাজারে এ পেইনা পল্লা ৬০/৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর এ সবজির উৎপাদন বেশি হচ্ছে।

এ সবজি এলাকায় পেইনা পল্লা ও কালা পল্লা নামে পরিচিত এবং এ পল্লার ভাজি ও ছোট মাছের তরকারিতে খেতেও মজা। বর্তমানে বাজারে দাম ভালো থাকায় ওই দম্পত্তির সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই মেয়েকে অনত্র বিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ছেলে স্থানীয় হাই স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ওই দম্পত্তি আশা করছেন, পল্লা চাষের পাশাপাশি অনান্য লাভজনক সবজি চাষের উদ্যোগ নিবে।

এজন্য তারা স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগীতাও চেয়েছেন এবং এ চাষে খরচ কম লাভ বেশি থাকায় অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবছর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের বিভিন্ন সবজি চাষণে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়ে থাকে এবং এসব চাষে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

83
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুধকুশি চাষে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনলেন আয়নাল ফকির

আপডেট টাইম : ০৮:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

এস,এম তফিজ উদ্দিন:
সিরাজগঞ্জের দরিদ্র কৃষক আয়নাল ফকির (৪০) দম্পত্তি জমি লিজ নিয়ে দুধকুশি পল্লার (পেইনা পল্লা, কালা পল্লা) সবজি বাগান চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন। বাজারে এ সবজির দাম ভালো থাকায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। ইতিমধ্যেই তার পরিবারের স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার শয্যভান্ডার খ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার বেতকান্দি গ্রামের আয়নাল ফকিরের নিজস্ব জমিজমা ও বসতবাড়ি নেই। তিনি প্রায় ২০ বছর আগে একই এলাকার শিল্পী বেগমকে বিয়ে করেন এবং শ্বশুর বাড়িতেই দোচালা টিনের ঘরে বসবাস করেন। এ বিয়ের পর থেকে ওই দম্পত্তি চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। তার স্ত্রী আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, স্বামী দিনমজুরের কাজ করে দুঃখ কষ্টের সংসার চলছিল।

এমতবস্থায় তার ঘরে ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এতে সংসারে আরো অভাব অনটন বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের পরামর্শে এ অভাব লাঘবে একই গ্রামের কবির বিএসসির প্রায় ২৫ শতাংশ ফসলি জমি লিজ নেয়া হয়। প্রতি বছরে ৯ হাজার টাকায় এ জমি লিজ নিয়ে কয়েক বছর ধরে এ সবজি চাষ করা হচ্ছে।

এ বছর জমিতে টমেটোসহ অনান্য সবজি চাষ করা হয় এবং টমেটো চাষ পরবর্তীতে প্রায় আড়াই মাস আগে দুধকুশি পল্লার (পেইনা পল্লা, কালা পল্লা) বীজ রোপণ করা হয়। আয়নাল দম্পত্তি এ বাগান পরিচর্যা করছেন। এবার এ সবজির বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে হাইব্রিড জাতের এ ধুতকুশি পল্লা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ সবজির বাগান থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী দামে প্রতিকেজি পল্লা ৪০/৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে এবং তারা স্থানীয় হাট বাজারে এ পেইনা পল্লা ৬০/৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর এ সবজির উৎপাদন বেশি হচ্ছে।

এ সবজি এলাকায় পেইনা পল্লা ও কালা পল্লা নামে পরিচিত এবং এ পল্লার ভাজি ও ছোট মাছের তরকারিতে খেতেও মজা। বর্তমানে বাজারে দাম ভালো থাকায় ওই দম্পত্তির সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যেই মেয়েকে অনত্র বিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ছেলে স্থানীয় হাই স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ওই দম্পত্তি আশা করছেন, পল্লা চাষের পাশাপাশি অনান্য লাভজনক সবজি চাষের উদ্যোগ নিবে।

এজন্য তারা স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগীতাও চেয়েছেন এবং এ চাষে খরচ কম লাভ বেশি থাকায় অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলের অনেক কৃষক বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবছর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের বিভিন্ন সবজি চাষণে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়ে থাকে এবং এসব চাষে তাদের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।