জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদলের এক কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আল আমিন নামে অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের ঢাকারপাড়া এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল কর্মীর নাম ইয়ানুল হোসেন (৩৫)। তিনি পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শালাখুর গ্রামের আলম মন্ডলের ছেলে। আহত আল আমিন একই ইউনিয়নের কামার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়ানুল হোসেন ও আল আমিন শালাইপুর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। পরে জোরপূর্বক রাস্তার পাশের আলুর জমিতে টেনে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন ইয়ানুল হোসেন ও আল আমিন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ানুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আল আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান জানান, নিহত ইয়ানুল হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বের একটি বিরোধই মূল কারণ। তারা জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে আদায়কৃত টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদলের নেতা ইয়ানুল হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার দামপাড়া গ্রামের আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ময়নুল ইসলাম ও তার লোকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ইয়ানুল হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি নিহতের স্বজনদের।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।জনতার কণ্ঠ.কম 



















