সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ

শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি : সংগৃহীত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠান মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল।

 

 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বঘোষিত ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল আসেন। এ সময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমানে সারিতে চেয়ার বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন।

 

এরপর কথাকাটাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করে বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

 

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

 

 

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আমরা ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে এ ঘটনাটি আমরা ঊধ্বর্তনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সব স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ

আপডেট টাইম : ০৭:০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠান মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল।

 

 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

 

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বঘোষিত ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল আসেন। এ সময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমানে সারিতে চেয়ার বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন।

 

এরপর কথাকাটাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করে বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

 

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদলের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

 

 

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আমরা ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে এ ঘটনাটি আমরা ঊধ্বর্তনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সব স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।