সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৃষ্টিতে ভাসিয়ে নিলো সারা বছরের শ্রম !

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৪ জন দেখেছেন
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে মূষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ও আধাপাকা ধান। এতে কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ, বছরের সব পরিশ্রম এখন পানিতে ভাসছে।
 শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে উপজেলার ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের শত শত একর কৃষিজমি তলিয়ে যায়। কোথাও ধানগাছ হেলে পড়েছে, কোথাও আবার গোড়া পচে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রায়গঞ্জে ১৯,১৩৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলনের আশা ছিল ভালো। কিন্তু হঠাৎ করে মৌসুমি বৃষ্টিতে অন্তত ধান ১২০ হেক্টর ও সবজি প্রায় ৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, কাটার সময় হয়েছিল। কিন্তু মাঠে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটা তো দূরের কথা, মাঠেই ঢোকা যাচ্ছে না। কয়েকদিন এরকম থাকলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।”
ধানগড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আবদুল করিম বলেন, “বৃষ্টি আর জোয়ারে ফসল ডুবে গেছে। পানি না নামলে গোড়া পচে ধান মরে যাবে। সারাবছরের কষ্ট এখন পানিতে ভেসে যাচ্ছে।”
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কৃষাণী রহিমা বেগম বলেন, “ঋণ করে সার-বীজ কিনেছি। এখন ধান ঘরে তুলতে না পারলে ঋণ শোধ করা সম্ভব না। আমাদের মতো গরিব কৃষকের জন্য এই বৃষ্টি অভিশাপ হয়ে এসেছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, “এই সময়ে অতিবৃষ্টি রোপা আমনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পানি যদি দ্রুত নেমে যায়, তবে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধানগাছ থাকলে গাছ পচে যাবে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলে ক্ষতি কমানো যাবে।”
টানা বৃষ্টিতে শুধু ফসল নয়, গ্রামের রাস্তা ও হাটবাজারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ধান পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কাটার আগেই ক্ষেতে দাঁড়ানো ধান কম দামে বিক্রির চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “যদি সরকার পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে এ বছর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।”
ট্যাগ :
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃষ্টিতে ভাসিয়ে নিলো সারা বছরের শ্রম !

আপডেট টাইম : ০৭:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে মূষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে  সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ও আধাপাকা ধান। এতে কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ, বছরের সব পরিশ্রম এখন পানিতে ভাসছে।
 শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে উপজেলার ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের শত শত একর কৃষিজমি তলিয়ে যায়। কোথাও ধানগাছ হেলে পড়েছে, কোথাও আবার গোড়া পচে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রায়গঞ্জে ১৯,১৩৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলনের আশা ছিল ভালো। কিন্তু হঠাৎ করে মৌসুমি বৃষ্টিতে অন্তত ধান ১২০ হেক্টর ও সবজি প্রায় ৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে, যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধান পেকে গেছে, কাটার সময় হয়েছিল। কিন্তু মাঠে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটা তো দূরের কথা, মাঠেই ঢোকা যাচ্ছে না। কয়েকদিন এরকম থাকলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।”
ধানগড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আবদুল করিম বলেন, “বৃষ্টি আর জোয়ারে ফসল ডুবে গেছে। পানি না নামলে গোড়া পচে ধান মরে যাবে। সারাবছরের কষ্ট এখন পানিতে ভেসে যাচ্ছে।”
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কৃষাণী রহিমা বেগম বলেন, “ঋণ করে সার-বীজ কিনেছি। এখন ধান ঘরে তুলতে না পারলে ঋণ শোধ করা সম্ভব না। আমাদের মতো গরিব কৃষকের জন্য এই বৃষ্টি অভিশাপ হয়ে এসেছে।”
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, “এই সময়ে অতিবৃষ্টি রোপা আমনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পানি যদি দ্রুত নেমে যায়, তবে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধানগাছ থাকলে গাছ পচে যাবে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিলে ক্ষতি কমানো যাবে।”
টানা বৃষ্টিতে শুধু ফসল নয়, গ্রামের রাস্তা ও হাটবাজারও জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ধান পরিবহনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কাটার আগেই ক্ষেতে দাঁড়ানো ধান কম দামে বিক্রির চিন্তায় পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “যদি সরকার পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে এ বছর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।”