নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সিজার অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সীমা রানী দাস (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে বেলকুচি পৌর এলাকার শেরনগর ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা রানী দাস বেলকুচি উপজেলার গাবগাছি গ্রামের শ্রী ভজন চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং নাটোর জেলার শ্রী তপন চন্দ্র দাসের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় সীমার অপারেশন শুরু হয়। পৌনে ১২টার দিকে সিজার অপারেশন শেষে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে জন্মের পর থেকেই তার জ্ঞান ফেরেনি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এসময় স্বজনরা বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিষয়টি জানালেও তারা আশ্বস্ত করে বলেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।
নিহতের এক আত্মীয় অভিযোগ করে বলেন, অপারেশনের পর থেকেই আমার বোনের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আমরা ডাক্তারদের অনুরোধ করলেও তারা গুরুত্ব দেননি। যখন অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন দায় এড়াতে আমাদের অন্য হাসপাতালে নিতে বলে। যদি তারা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিত বা আগে রেফার করত, হয়তো সীমা রানীকে বাঁচানো যেত।
পরে রাতেই তাকে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই নিহতের মরদেহ স্বামীর বাড়ি নাটোর জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই সীমা রানীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হাসপাতালটি বন্ধের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘটনা প্রসঙ্গে শেরনগর ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতালের রিসেপশনিস্ট মারুফা বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই।
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বেলকুচির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মান ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রিপোর্টার: 



















