সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভায়া মিডিয়া হয়ে আল্লাহর কাছে যাওয়ার কোন পথ নাই: টুকু

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৩:০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একটি দল বলে যে, ভোট দিলে পাল্লায় ভোট পাবে আল্লায়। এটা একটা বিভ্রান্তিকর শ্লোগান। ফজরের নামাজ পড়ে মহিলারা নেমে আমাদের গ্রামের মায়েদের ভুল পথে চালানো হচ্ছে। ভায়া মিডিয়া হয়ে আল্লাহর কাছে যাওয়ার কোন পথ নেই। আপনার নামাজ আপনাকেই পড়তে হবে, আপনার রোজা, আপনাকেই রাখতে হবে। তবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলগেট এলাকায় ১, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির মতবিনিময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, একটা দল নেমেছে যাকে আমাদের চেয়ারম্যান যাদের বলেন অদৃশ্য ফ্যাসিবাদ। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছিল, পাকিস্তানের সহকারি বাহিনী হয়েছিল। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল। তারা আজকে বলতে চায়, ভারত নাকি আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে। ভুলে যান, পাকিস্তানের মৃত্যু হয়ে গেছে, পাকিস্তান আর হবে না।

টুকু আরও বলেন, ১৯৫৮ সালে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান করার পর ইসলামকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ শুরু করে। আমাদের অর্থ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে। তখন বাঙালিরা বুঝেছিল তেলে আর জলে মিলবে না। তাই তাদের অধিকারের জন্য ৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ হৃদয় নিংড়িয়ে ভোট দিয়েছিল, আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। জয়লাভ করার পরেও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করে নাই। তখনই বাংলাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছিল।

সুতরাং পাকিস্তান ভাঙার জন্য ভারত আমাদের ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করিয়েছে এই বয়ান আপনারা দিতে পারেন, কারণ আপনারা বিরোধীতা করেছিলেন। আপনাদের চরিত্র এমন কোনদিনও মানুষের সাথে থাকেন নাই। আপনারা যখন পাকিস্তান হয়েছিল, তখন পাকিস্তানের বিরোধীতা করেছিলেন, পাকিস্তানের বিরোধীতা করেছিল আবুল আলা মওদুদী।

সাবেক এই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই ১৬ বছরের আন্দোলনে তারা ছিল না। তাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়েছে, হরতাল দিয়ে মাঠে থাকে নাই। তারা কি করেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে গেছে, ছাত্রলীগে ঢুকে গেছে। আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা যতবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেছে তাদের পেটানো হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

আবার ৫ আগষ্টের পরে যার যার রূপ নিয়ে  তারা ফিরে এসছে। আমরা তো এই রকম ছলনার রাজনীতি করিনা। আমাদের ছাত্রদলও করে নাই। ১৬ বছর ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে নাই। সুতরাং ঘাপটি মেরে থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে এই স্বপ্ন তারা দেখছে।  তার কারণ আছে, তারা ছাত্র-জনাতর গণঅভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তারা দখল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে কলেজের অধ্যক্ষসহ প্রত্যেক জায়গায় তাদের লোক বসিয়েছে।

তিনি বলেন, এই দলটি একাত্তুরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছিল। তারা আলবদর আলসামস বানিয়ে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল। দুঃখের বিষয় হলো, ডাকসু নির্বাচনের পরে দেখলাম ওই বুদ্ধিজীবি বদ্ধভূমিতে যেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়। এ কেমন ভণ্ডামি, হত্যা করে হত্যার ক্ষমা না চেয়ে বদ্ধভূমিতে যেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে দেখাচ্ছো আজকে তোমরা বাঙালি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে টুকু বলেন, সিরাজগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মী কোনদিন রাজপথ ছেড়ে দেয় নাই। বিএনপির কোন নেতা যারা আন্দোলনে ছিল তারা অন্য কোনদিকে যায় নাই। ৫ আগষ্ট পরিবর্তণের পরে আমরা যাদেরকে রাজপথে দেখিই নাই, তাদের হঠাৎ করে আবির্ভাব হয়েছে। আপনারা দেখেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি একজন মহিলা। তাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে গুলি করে দমন করা যায় নাই, রাজপথে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে দমন করা যায় নাই, সে কোন নেতাকর্মীকে ফেলে যায় নাই।  আমি যখন বিদেশে ছিলাম আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রতিটি আন্দোলনের ছক তৈরি করে সকালে উঠেই আন্দোলন  শুরু করেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিম ভুইয়ার সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জাহেদ আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান মুরাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস প্রমূখ।

84
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভায়া মিডিয়া হয়ে আল্লাহর কাছে যাওয়ার কোন পথ নাই: টুকু

আপডেট টাইম : ০৩:০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একটি দল বলে যে, ভোট দিলে পাল্লায় ভোট পাবে আল্লায়। এটা একটা বিভ্রান্তিকর শ্লোগান। ফজরের নামাজ পড়ে মহিলারা নেমে আমাদের গ্রামের মায়েদের ভুল পথে চালানো হচ্ছে। ভায়া মিডিয়া হয়ে আল্লাহর কাছে যাওয়ার কোন পথ নেই। আপনার নামাজ আপনাকেই পড়তে হবে, আপনার রোজা, আপনাকেই রাখতে হবে। তবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবেন।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের রেলগেট এলাকায় ১, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির মতবিনিময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, একটা দল নেমেছে যাকে আমাদের চেয়ারম্যান যাদের বলেন অদৃশ্য ফ্যাসিবাদ। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছিল, পাকিস্তানের সহকারি বাহিনী হয়েছিল। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল। তারা আজকে বলতে চায়, ভারত নাকি আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে। ভুলে যান, পাকিস্তানের মৃত্যু হয়ে গেছে, পাকিস্তান আর হবে না।

টুকু আরও বলেন, ১৯৫৮ সালে ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান করার পর ইসলামকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ শুরু করে। আমাদের অর্থ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে। তখন বাঙালিরা বুঝেছিল তেলে আর জলে মিলবে না। তাই তাদের অধিকারের জন্য ৭০ এর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ হৃদয় নিংড়িয়ে ভোট দিয়েছিল, আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। জয়লাভ করার পরেও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করে নাই। তখনই বাংলাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছিল।

সুতরাং পাকিস্তান ভাঙার জন্য ভারত আমাদের ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করিয়েছে এই বয়ান আপনারা দিতে পারেন, কারণ আপনারা বিরোধীতা করেছিলেন। আপনাদের চরিত্র এমন কোনদিনও মানুষের সাথে থাকেন নাই। আপনারা যখন পাকিস্তান হয়েছিল, তখন পাকিস্তানের বিরোধীতা করেছিলেন, পাকিস্তানের বিরোধীতা করেছিল আবুল আলা মওদুদী।

সাবেক এই বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই ১৬ বছরের আন্দোলনে তারা ছিল না। তাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়েছে, হরতাল দিয়ে মাঠে থাকে নাই। তারা কি করেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে গেছে, ছাত্রলীগে ঢুকে গেছে। আমাদের ছাত্রদলের ছেলেরা যতবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেছে তাদের পেটানো হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

আবার ৫ আগষ্টের পরে যার যার রূপ নিয়ে  তারা ফিরে এসছে। আমরা তো এই রকম ছলনার রাজনীতি করিনা। আমাদের ছাত্রদলও করে নাই। ১৬ বছর ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে নাই। সুতরাং ঘাপটি মেরে থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে এই স্বপ্ন তারা দেখছে।  তার কারণ আছে, তারা ছাত্র-জনাতর গণঅভ্যুত্থানের পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তারা দখল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে কলেজের অধ্যক্ষসহ প্রত্যেক জায়গায় তাদের লোক বসিয়েছে।

তিনি বলেন, এই দলটি একাত্তুরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধীতা করেছিল। তারা আলবদর আলসামস বানিয়ে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছিল। দুঃখের বিষয় হলো, ডাকসু নির্বাচনের পরে দেখলাম ওই বুদ্ধিজীবি বদ্ধভূমিতে যেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়। এ কেমন ভণ্ডামি, হত্যা করে হত্যার ক্ষমা না চেয়ে বদ্ধভূমিতে যেয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে দেখাচ্ছো আজকে তোমরা বাঙালি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে টুকু বলেন, সিরাজগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মী কোনদিন রাজপথ ছেড়ে দেয় নাই। বিএনপির কোন নেতা যারা আন্দোলনে ছিল তারা অন্য কোনদিকে যায় নাই। ৫ আগষ্ট পরিবর্তণের পরে আমরা যাদেরকে রাজপথে দেখিই নাই, তাদের হঠাৎ করে আবির্ভাব হয়েছে। আপনারা দেখেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি একজন মহিলা। তাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে গুলি করে দমন করা যায় নাই, রাজপথে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে দমন করা যায় নাই, সে কোন নেতাকর্মীকে ফেলে যায় নাই।  আমি যখন বিদেশে ছিলাম আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রতিটি আন্দোলনের ছক তৈরি করে সকালে উঠেই আন্দোলন  শুরু করেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিম ভুইয়ার সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সী জাহেদ আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান মুরাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস প্রমূখ।