সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের কবরের পাশে সমাহিত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাত।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

 

 

 

 

এর আগে, সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাসনিম রিফাতের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তাসনিম রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

 

 

মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাসনিম রিফাতের এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার ও স্বজনরা। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। এবার কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত বাবার আহাজারিতে বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

তাসনিম রিফাত স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শোকাহত স্বজনরা। প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানাতে জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া মানুষের চোখেমুখে ছিল শোকের ছাপ।

 

 

 

 

এদিকে তাসনিম রিফাতের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই সেনাসদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।

One thought on “মায়ের কবরের পাশে সমাহিত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের কবরের পাশে সমাহিত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত

আপডেট টাইম : ০৪:৫১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাত।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

 

 

 

 

এর আগে, সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তাসনিম রিফাতের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে।

আরও পড়ুন: আইসিসিবিতে প্রতি শুক্রবার বসবে রিকন্ডিশন গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচার হাট

মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে তাসনিম রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

তাসনিম রিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনের সদস্য ছিলেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনুশীলনের সময় ট্যাংকের ভেতরে একটি গোলা বিস্ফোরিত হলে তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

 

 

 

মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাসনিম রিফাতের এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার ও স্বজনরা। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। এবার কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আসাদুল ইসলাম। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত বাবার আহাজারিতে বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

 

 

 

 

তাসনিম রিফাত স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী এবং বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও শোকাহত স্বজনরা। প্রিয় মানুষকে শেষ বিদায় জানাতে জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া মানুষের চোখেমুখে ছিল শোকের ছাপ।

 

 

 

 

এদিকে তাসনিম রিফাতের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই সেনাসদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।