সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আবারও ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যাংয়ে উত্তরপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

 

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উখিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, গতকাল এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি, মাছ ধরতে ওই জেলে মিয়ানমার সীমানা পার হয়ে তাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল। সেখান থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে আজ সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরে ১১টার পরে আবারও থেমে থেমে গোলাগুলির মিয়ানমার থেকে শব্দ ভেসে আসছে এপারে। সীমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

 

গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।

 

আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে আনা হয়। প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে বিস্ফোরণে আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারও জেলে।

 

হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবি বিওপির কাছাকাছি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, আজকেও সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বড় ধরনের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া গতকাল গুলিতে এক জেলে আহত হয়। সব মিলিয়ে এখানকার লোকজন খুব ভয়ভীতির মধ্য আছেন।

 

জানতে চাইলে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র কালবেলাকে বলেন, আজকে সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গুলির শব্দ পাওয়া কথা জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া গতকাল হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সীমান্তে ওপারে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় সীমান্তের বাসিন্দারা।

 

81
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি

আপডেট টাইম : ০৯:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আবারও ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যাংয়ে উত্তরপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

 

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার সময় গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিটি মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গুলিবিদ্ধ আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলি ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

 

জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে উখিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, গতকাল এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি, মাছ ধরতে ওই জেলে মিয়ানমার সীমানা পার হয়ে তাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল। সেখান থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে। তবে আজ সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। পরে ১১টার পরে আবারও থেমে থেমে গোলাগুলির মিয়ানমার থেকে শব্দ ভেসে আসছে এপারে। সীমান্তে বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

 

গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সহযোগীকে নিয়ে নৌকায় করে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান আলমগীর। তারা নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ নামের জলসীমানায় পৌঁছালে হঠাৎ মিয়ানমারের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় একটি গুলি এসে আলমগীরের বাঁ হাতে লাগে।

 

আলমগীরের ভাই মো. ইউনুছ বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে আনা হয়। প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার সকালেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। ওপার সীমান্তের তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া এলাকায় দখল ও পুনরুদ্ধার ঘিরে এ ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে বিস্ফোরণে আতঙ্কে রয়েছেন সীমান্তের অন্তত আট হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদীতে মাছ ধরা হাজারও জেলে।

 

হোয়াইক্যং সীমান্তে বিজিবি বিওপির কাছাকাছি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, আজকেও সকাল থেকে বেশ কয়েকটি গোলার বড় ধরনের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া গতকাল গুলিতে এক জেলে আহত হয়। সব মিলিয়ে এখানকার লোকজন খুব ভয়ভীতির মধ্য আছেন।

 

জানতে চাইলে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র কালবেলাকে বলেন, আজকে সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গুলির শব্দ পাওয়া কথা জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া গতকাল হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদীতে মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়ে বাংলাদেশি এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া সীমান্তে ওপারে প্রায় সময় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় সীমান্তের বাসিন্দারা।