সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র আরেক বিশ্বনেতাকে অপহরণ করতে পারে: মেদভেদভের মন্তব্য

দিমিত্রি মেদভেদভ ও ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসকেও তুলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদভ।

 

 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

 

 

কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকির পর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মাদুরোকে ব্রুকলিনের একটি কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে ‘মাদক সন্ত্রাস’র অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে মাদুরোকে অপহরণ করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশে দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোর অপহরণ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বিদেশি নেতাদের অপহরণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার মেদভেদেভ।

গত ৪ জানুয়ারি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোর মতো অন্য বিশ্বনেতাদেরও অপহরণ করা হতে পারে। এর মধ্যে আলাদা করে জার্মান চ্যান্সেলরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

 

মেদভেদেভ আরও বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে একটি চমৎকার এবং মোড় ঘোরানো ঘটনা হতে পারে নব্য-নাৎসি মার্ৎসকে অপহরণ করা।’

 

 

এমন পরিস্থিতি মোটেও অবাস্তব নয় মনে করে তিনি বলেন, ‘জার্মানিতেই তার বিচার করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এ কারণে, এতে কারও কোনো ক্ষতি হবে না। বিশেষত যখন দেশটির নাগরিকরা বিনা কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’

 

 

জার্মানি মেদভেদভের এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন সরকারের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিল, ‘আপনারা নিশ্চয়ই বিষয়টা বুঝতে পারছেন। আমরা এসব বক্তব্য আমলে নিয়েছি। স্বভাবতই (জার্মানির) কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের যেকোনো বক্তব্য ও হুমকির প্রতি কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।’

 

 

মেদভেদভ ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্রেমলিনের উচ্চকণ্ঠ সমর্থক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাশিয়ার অন্য নেতাদের মতো তিনি প্রায়ই ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর সমালোচনা করেন। গত রোববারের বক্তব্যে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের সমালোচনা করেন মেদভেদেভ। এ সময় ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিরও সমালোচনা করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করায় জেলেনস্কিকে অবৈধ নেতা আখ্যা দিয়েছে মস্কো। সেই অবস্থানই নতুন করে জানান দেন মেদভেদভ।

84
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র আরেক বিশ্বনেতাকে অপহরণ করতে পারে: মেদভেদভের মন্তব্য

আপডেট টাইম : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসকেও তুলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদভ।

 

 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

 

 

কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকির পর গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মাদুরোকে ব্রুকলিনের একটি কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে ‘মাদক সন্ত্রাস’র অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে মাদুরোকে অপহরণ করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশে দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোর অপহরণ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে বিদেশি নেতাদের অপহরণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার মেদভেদেভ।

গত ৪ জানুয়ারি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোর মতো অন্য বিশ্বনেতাদেরও অপহরণ করা হতে পারে। এর মধ্যে আলাদা করে জার্মান চ্যান্সেলরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

 

মেদভেদেভ আরও বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে একটি চমৎকার এবং মোড় ঘোরানো ঘটনা হতে পারে নব্য-নাৎসি মার্ৎসকে অপহরণ করা।’

 

 

এমন পরিস্থিতি মোটেও অবাস্তব নয় মনে করে তিনি বলেন, ‘জার্মানিতেই তার বিচার করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এ কারণে, এতে কারও কোনো ক্ষতি হবে না। বিশেষত যখন দেশটির নাগরিকরা বিনা কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’

 

 

জার্মানি মেদভেদভের এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন সরকারের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিল, ‘আপনারা নিশ্চয়ই বিষয়টা বুঝতে পারছেন। আমরা এসব বক্তব্য আমলে নিয়েছি। স্বভাবতই (জার্মানির) কেন্দ্রীয় সরকার এ ধরনের যেকোনো বক্তব্য ও হুমকির প্রতি কঠোরতম ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে।’

 

 

মেদভেদভ ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্রেমলিনের উচ্চকণ্ঠ সমর্থক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাশিয়ার অন্য নেতাদের মতো তিনি প্রায়ই ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর সমালোচনা করেন। গত রোববারের বক্তব্যে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের সমালোচনা করেন মেদভেদেভ। এ সময় ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিরও সমালোচনা করেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করায় জেলেনস্কিকে অবৈধ নেতা আখ্যা দিয়েছে মস্কো। সেই অবস্থানই নতুন করে জানান দেন মেদভেদভ।