সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যেভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠলো ‘পুঁচকে দল’ কুরাসাও

সংগৃহীত ছবি

মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এক ক্যারিবীয় দ্বীপ। মানচিত্রে ক্ষুদ্র জায়গা দখল করে আছে, কিন্তু ফুটবল বিশ্বে আজ তারা বিশাল এক জায়ান্ট। 

জ্যামাইকার কিংসটনে এক রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে কুরাসাও। এর মাধ্যমে তারা আইসল্যান্ডের (২০১৮ বিশ্বকাপ) রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশে পরিণত হলো।

নাটকীয় রাত ও রেকর্ড ইতিহাস গড়ার রাতে জ্যামাইকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল ৩৫ হাজার দর্শক, যাদের অধিকাংশই ছিল স্বাগতিক জ্যামাইকার সমর্থক। তবে গ্যালারির এক কোণে কুরাসাওয়ের ‘আল্ট্রা’ সমর্থকরা নীল পতাকা উড়িয়ে উৎসব করেছেন, যারা দুটি চার্টার্ড বিমানে করে প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে এসেছিলেন। 

ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। জ্যামাইকা তিনবার বল পোস্টে মারে এবং ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে তাদের একটি পেনাল্টি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে কুরাসাও। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করেছেন জ্যামাইকার কোচ স্টিভ ম্যাকলরেন।

 

নেপথ্যের নায়ক ডিক অ্যাডভোকেট 

এই রূপকথার মূল কারিগর ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তিনি নেদারল্যান্ডসে ফিরে গেলেও প্রতিনিয়ত দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি সহকারী কোচ ডিন গোর এবং দলকে মেসেজ পাঠান, ‘অভিনন্দন। অবিশ্বাস্য, চমৎকার, খুব ভালো! কী এক অ্যাডভেঞ্চার!’

অ্যাডভোকেট এর আগে ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০১২ ইউরোতে রাশিয়াকে কোচিং করিয়েছেন। এবার কুরাসাওকে নিয়ে যাচ্ছেন ২০২৬ বিশ্বকাপে। 

যেভাবে গড়ে উঠল দলটি 

 

কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট মার্টিনা চেয়েছিলেন একজন বড় কোচ। তিনি প্রথমে বার্ট ফন মারউইক এবং লুই ফন গালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ফন গাল বলেছিলেন, তিনি কেবল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল পেলে কোচিং করাবেন। এরপর ডিক অ্যাডভোকেট নিজেই ফোন করে দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

ডাচ সংযোগ

 

কুরাসাও একসময় নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ছিল এবং এখনো ডাচ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া কুরাসাও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছেন মার্টিনা। দলের একমাত্র তাহিত চং ছাড়া বাকি সবাই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণকারী।

 

দলের অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা (৩৪), যিনি তুরস্কের লিগে খেলেন, এখন কুরাসাওয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার (৬৮ ম্যাচ)। তার ভাই জুনিনহো বাকুনা এবং ডিন গোরের ছেলে কেনজি গোরও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাকুনা বলেন, ‘আমরা যারা ডাচ দলে সুযোগ পাইনি, কিন্তু কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখি, তাদের নিয়েই এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন আমরা এক পরিবারের মতো।’

লক্ষ্য ছিল কেবল ফলাফল 

 

অ্যাডভোকেটের দর্শন ছিল পরিষ্কার—সুন্দর ফুটবল নয়, ফলাফল চাই। বাছাইপর্বে প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল হিসেবে নিয়েছেন তিনি। হাইতি, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার মতো দলকে পেছনে ফেলে এই সাফল্য পেয়েছে তারা।

 

অধিনায়ক বাকুনার ভাষায়, ‘আমি কয়েক সপ্তাহ আগেই স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। এখন সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। আমি চাই এটা এখনই শুরু হোক।’

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠলো ‘পুঁচকে দল’ কুরাসাও

আপডেট টাইম : ০৪:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার এক ক্যারিবীয় দ্বীপ। মানচিত্রে ক্ষুদ্র জায়গা দখল করে আছে, কিন্তু ফুটবল বিশ্বে আজ তারা বিশাল এক জায়ান্ট। 

জ্যামাইকার কিংসটনে এক রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে কুরাসাও। এর মাধ্যমে তারা আইসল্যান্ডের (২০১৮ বিশ্বকাপ) রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশে পরিণত হলো।

নাটকীয় রাত ও রেকর্ড ইতিহাস গড়ার রাতে জ্যামাইকার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল ৩৫ হাজার দর্শক, যাদের অধিকাংশই ছিল স্বাগতিক জ্যামাইকার সমর্থক। তবে গ্যালারির এক কোণে কুরাসাওয়ের ‘আল্ট্রা’ সমর্থকরা নীল পতাকা উড়িয়ে উৎসব করেছেন, যারা দুটি চার্টার্ড বিমানে করে প্রিয় দলকে সমর্থন দিতে এসেছিলেন। 

ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। জ্যামাইকা তিনবার বল পোস্টে মারে এবং ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে তাদের একটি পেনাল্টি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে কুরাসাও। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করেছেন জ্যামাইকার কোচ স্টিভ ম্যাকলরেন।

 

নেপথ্যের নায়ক ডিক অ্যাডভোকেট 

এই রূপকথার মূল কারিগর ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তিনি নেদারল্যান্ডসে ফিরে গেলেও প্রতিনিয়ত দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। ম্যাচ শেষে তিনি সহকারী কোচ ডিন গোর এবং দলকে মেসেজ পাঠান, ‘অভিনন্দন। অবিশ্বাস্য, চমৎকার, খুব ভালো! কী এক অ্যাডভেঞ্চার!’

অ্যাডভোকেট এর আগে ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস, ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০১২ ইউরোতে রাশিয়াকে কোচিং করিয়েছেন। এবার কুরাসাওকে নিয়ে যাচ্ছেন ২০২৬ বিশ্বকাপে। 

যেভাবে গড়ে উঠল দলটি 

 

কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট মার্টিনা চেয়েছিলেন একজন বড় কোচ। তিনি প্রথমে বার্ট ফন মারউইক এবং লুই ফন গালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ফন গাল বলেছিলেন, তিনি কেবল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল পেলে কোচিং করাবেন। এরপর ডিক অ্যাডভোকেট নিজেই ফোন করে দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

ডাচ সংযোগ

 

কুরাসাও একসময় নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ছিল এবং এখনো ডাচ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া কুরাসাও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছেন মার্টিনা। দলের একমাত্র তাহিত চং ছাড়া বাকি সবাই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণকারী।

 

দলের অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা (৩৪), যিনি তুরস্কের লিগে খেলেন, এখন কুরাসাওয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার (৬৮ ম্যাচ)। তার ভাই জুনিনহো বাকুনা এবং ডিন গোরের ছেলে কেনজি গোরও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাকুনা বলেন, ‘আমরা যারা ডাচ দলে সুযোগ পাইনি, কিন্তু কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখি, তাদের নিয়েই এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন আমরা এক পরিবারের মতো।’

লক্ষ্য ছিল কেবল ফলাফল 

 

অ্যাডভোকেটের দর্শন ছিল পরিষ্কার—সুন্দর ফুটবল নয়, ফলাফল চাই। বাছাইপর্বে প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল হিসেবে নিয়েছেন তিনি। হাইতি, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার মতো দলকে পেছনে ফেলে এই সাফল্য পেয়েছে তারা।

 

অধিনায়ক বাকুনার ভাষায়, ‘আমি কয়েক সপ্তাহ আগেই স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি। এখন সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। আমি চাই এটা এখনই শুরু হোক।’