প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিয়ে প্রথম আলোর করা প্রতিবেদনে চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিসহ শাহজাদপুর বাসী। এদিকে ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাহ আলী স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘চলনবিলে কেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস’ শিরোনামে ১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যাখ্যান করছে এবং এরূপ কল্পনাপ্রসূত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা থেকে চলন বিলের দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার। মূল চলন বিল এলাকা পর্যন্ত অর্ধশত সেতু, সড়ক, স্কুল, কলেজসহ হাজার হাজার অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হলেও কেবল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যার সঙ্গে চলনবিলের কোনোই সম্পর্কই নেই। রবীন্দ্রনাথ, উচ্চশিক্ষা ও বাংলাদেশবিরোধী একটি চক্র যেভাবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনে বাধা তৈরি করছে, তাদেরই কণ্ঠস্বর হয়ে প্রথম আলো এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিষয়টি আমাদের জন্য যেমন বেদনার তেমনি বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর জন্যও লজ্জার।
১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে যে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় চলনবিলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা চলনবিলের অংশ নয়। সরকারি তথ্যমতে এটি খাস, অকৃষি ও পতিত জমি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শতাধিক খাল, বিল, নদ-নদীর পানি প্রবাহের স্থানে পানিপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে ক্যাম্পাস স্থাপন করতে চায় বলে যে বক্তব্য প্রচার করেছে, তা সর্বৈব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রথম আলোর সংবাদে রবীন্দ্র
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড সংবলিত যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তার পাশে কোনো বিল নেই, যেটি আছে সেটি বড়াল নদ। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার বাইরে যে তিনটি নদী আছে তার সাহায্যেই জলপ্রবাহ অব্যহত থাকবে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বা জলপ্রবাহে হস্তক্ষেপ করতে না হয়। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের অধিকাংশ ভূমি নিচু। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই তা প্লাবিত হয়। এমন প্লাবিত স্থানকে চলনবিল দাবি করে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বিলের উৎসমুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অর্থই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, সেখানে বালু ভরাটের তথ্য বাস্তবতাবর্জিত। বড়াল নদীর বাঁধ, স্লুইসগেট, খালগুলোর সংকীর্ণতা ও নাব্যতা সংকট তথা সত্যিকার অর্থে চলনবিলের কল্যাণার্থে উদ্যোগী না হয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের উন্মেষকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে পরিবেশের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দুগ্ধশিল্প, মৎস্যশিল্প এবং কৃষির উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আমিনুর রহমান মজুমদার ১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলতে পারি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে চলনবিলের ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ক্যাম্পাস থেকে চলনবিল ৬৮ কিলোমিটার দূরে। এর মধ্যে আরবানাইজেশনও আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে বহু আগে। যেকোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে এর ফিজিক্যাল কন্ডিশন, পরিবেশসহ সবকিছু স্টাডি করে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় হলে লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি দেখছি না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন রিসার্চ সেন্টার হতে পারে, এখান থেকে শিক্ষা বিস্তার লাভ করবে, এলাকার মানুষ শিক্ষার সুবিধা পাবে।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চলনবিল গবেষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে বলেন, চলনবিল ধ্বংসের কারণ নয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় তার অবকাঠামো, পাঠ ও গবেষণার মধ্য দিয়ে হতে পারে চলনবিলের রক্ষাকবচ।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের
আইনে বলা আছে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে। এমতাবস্থায় বিকল্প স্থানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আইন ২০১৬’ পরিপন্থি এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনকে বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। সিরাজগঞ্জের ইকোনোমিক জোনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যলয় ক্যাম্পাস নির্মাণে বিকল্প জায়গার কথা কেউ কেউ বলছেন বলে যে বক্তব্য প্রচার করা হযেছে, সেই বিষয়ে এর আগে কখনোই কোনো কথা কেউ বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে। শ্রেণিকার্যক্রম আরম্ভ হয় ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য বুড়ি পোতাজিয়ার জায়গাটি নির্বাচন করা হয় ২০১৮ সালে। শিক্ষার্থী যারপরনাই অসুবিধার মধ্যে পাঠগ্রহণ করছে। এতবছর এই তথাকথিত পরিবেশ আন্দোলন কর্মী বা দৈনিক প্রথম আলো কোনো কথা বলেনি। আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে একনেক সভায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি আলোচিত হতে পারে। এর ঠিক আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের বিরুদ্ধে এমন নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটি রবীন্দ্রবিরোধী, উচ্চশিক্ষাবিরোধী ও দেশবিরোধী চক্রের নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ বলে আমরা মনে করি। আমরা দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদককে এরূপ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রচার থেকে বিরত থেকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালনের অনুরোধ করছি। চলনবিল ধ্বংসের কারণ নয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে চলনবিলের রক্ষাকবচ।

রিপোর্টার: 



















