জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর ঢাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিশেষ করে আগের রাতের হামলার ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর এলে ফার্মগেটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো এবং ধানমন্ডিতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
ছায়ানট ভবন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি দেখা গেলেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কিংবা শাহবাগ এলাকায় সেই তুলনায় কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ছায়ানটের সামনে দায়িত্বে থাকা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান, সকাল থেকেই তারা সেখানে অবস্থান করছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে দুপুরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছেন।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে একদল বিক্ষোভকারী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির অনেক সংবাদকর্মী ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
হামলাকারীদের থামাতে গিয়ে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে একদল ব্যক্তির হাতে নাজেহাল হন নিউ এইজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
একই রাতে ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনেও ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী। রিকশায় থাকা হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর দেখে সেখান থেকে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যায় সরকার। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যান হাদি। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর জানান চিকিৎসকরা। সিঙ্গাপুর থেকে সন্ধ্যায় তার লাশ দেশে আনা হয়েছে।
ওসমান হাদিকে গুলিতে জড়িত মূল সন্দেহভাজন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ। তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















