স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৫ সালের ৮ আগস্ট, শুক্রবার। ইসরায়েলি ফুটবলের কিংবদন্তি সুলেইমান আল-উবাইদকে স্মরণ করে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয় উয়েফা। তবে পোস্টে কোথাও উল্লেখ ছিল না, কীভাবে বা কার হাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরের দিন, লিভারপুলের তারকা ও আরব বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার মোহামেদ সালাহ সেই পোস্টে মন্তব্য করেন, সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে—‘আপনারা কি বলতে পারবেন, তিনি কীভাবে, কোথায় এবং কেন মারা গেলেন?’ সালাহর এই মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এক মিলিয়নের কাছাকাছি ভিউ হয়।
ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানায়, গত ৬ আগস্ট গাজা উপত্যকার দক্ষিণে মানবিক সহায়তা নিতে অপেক্ষারত বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ৪১ বছর বয়সী আল-উবাইদ।
১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ গাজায় জন্ম নেয়া আল-উবাইদ খদামাত আল-শাতি ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে খেলেছেন পশ্চিম তীরের মার্কাজ শাবাব আল-আমারি ও গাজা স্পোর্টসে।
২০০৭ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেন তিনি। মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন দুটি গোল। এর মধ্যে ২০১০ সালের ওয়েস্ট এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়েমেনের বিপক্ষে তার দারুণ সিজার-কিক গোলটি আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১০০টিরও বেশি গোল করেছেন তিনি। তাকে ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল তার সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য ও নেতৃত্বের জন্য।
পিএফএ জানায়, মৃত্যুর দিন তিনি তীব্র খাদ্য ও পানি সংকটে মানবিক সহায়তার জন্য সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন। পেছনে রেখে গেছেন স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে।
আল-উবাইদের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই গাজার আল-তুফফাহ স্পোর্টস ক্লাবের ফুটবলার মাহমুদ রাফেহ শাহীনও একইভাবে নিহত হন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিহত হয়েছিলেন তার সতীর্থ ইসমাইল আবু দান।
পিএফএ’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে পিএফএ’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৩২২ জন— খেলোয়াড়, কোচ, প্রশাসক, রেফারি ও ক্লাব বোর্ড সদস্যসহ।
গাজায় অন্তত ২৬৮টি ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে, সারাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সংখ্যা ২৮৮। গাজার পিএফএ সদর দপ্তরও ধ্বংস হয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলায়।
রাজনীতি নয়, অজুহাতের ভণ্ডামি
প্যালেস্টাইন ক্রনিকলের প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিক রামজি বারুদ লিখেছেন, ‘প্যালেস্টাইনের ক্ষেত্রে ভণ্ডামির শেষ নেই। বহু বছর ধরে আরব, মুসলিম ও গ্লোবাল সাউথের সমর্থনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জবাবদিহি দাবি উঠলেও, তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। জবাব আসে একই— ক্রীড়া আর রাজনীতি মেশানো যাবে না.’
বারুদের ভাষায়, এই অজুহাতই ‘চূড়ান্ত ভণ্ডামি’, কারণ রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ফিফা নিজেই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, ফিফার নৈতিক দেউলিয়া অবস্থা বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্রীড়াপ্রেমীদের আন্দোলনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে— যারা স্পষ্টভাবে ফিফার ইসরায়েল-সমর্থনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, মার্কিন সমর্থনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন— যাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও প্রবীণ। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ। অবরোধ সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে ইতিমধ্যেই বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে, আরও হাজারো মানুষ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে।
সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

রিপোর্টার: 

























