সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামপুরের বিশ্বখ্যাত কাঁসা শিল্প

​এক সময় যার খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে, সেই জামালপুর জেলার ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতি, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের আধিপত্য এবং কারিগরদের মজুরি সংকটে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪২ সালে লন্ডনের বার্মিংহামে আয়োজিত বিশ্ব হস্তশিল্প প্রদর্শনীতে ইসলামপুরের শিল্পী জগৎচন্দ্র কর্মকারের তৈরি কাঁসা শিল্প সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেছিল। এক সময় বিয়ে বা আকিকার মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে কাঁসার জিনিসের কোনো বিকল্প ছিল না। এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদাও ছিল ব্যাপক।

‎​বর্তমানে প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্যের সস্তা বাজার এবং কাঁসা তৈরির উপকরণের আকাশচুম্বী দামের কারণে এই শিল্পটি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

‎শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান: ​অভাবের তাড়নায় বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক কারিগর। উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা বিমুখ হচ্ছেন, ফলে মালিকপক্ষ কারিগরদের পর্যাপ্ত বেতন দিতে পারছেন না। বর্তমানে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান কোনোমতে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে।

‎​ইসলামপুর বাজারের ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা জানান, যথাযথ সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্পকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে মসলিনের মতো বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামপুরের বিশ্বখ্যাত কাঁসা শিল্প

আপডেট টাইম : ০৫:৫০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

​এক সময় যার খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে, সেই জামালপুর জেলার ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁসা শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতি, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের আধিপত্য এবং কারিগরদের মজুরি সংকটে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪২ সালে লন্ডনের বার্মিংহামে আয়োজিত বিশ্ব হস্তশিল্প প্রদর্শনীতে ইসলামপুরের শিল্পী জগৎচন্দ্র কর্মকারের তৈরি কাঁসা শিল্প সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেছিল। এক সময় বিয়ে বা আকিকার মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে কাঁসার জিনিসের কোনো বিকল্প ছিল না। এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদাও ছিল ব্যাপক।

‎​বর্তমানে প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্যের সস্তা বাজার এবং কাঁসা তৈরির উপকরণের আকাশচুম্বী দামের কারণে এই শিল্পটি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

‎শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান: ​অভাবের তাড়নায় বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক কারিগর। উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা বিমুখ হচ্ছেন, ফলে মালিকপক্ষ কারিগরদের পর্যাপ্ত বেতন দিতে পারছেন না। বর্তমানে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান কোনোমতে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছে।

‎​ইসলামপুর বাজারের ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা জানান, যথাযথ সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্পকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে মসলিনের মতো বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।