সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এক দিন পরে দীর্ঘ তিন মাস সাত দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে বন্দরের খুচরা বাজারে কেজি প্রতি দাম কমেছে ৩০ টাকা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভারত থেকে একটি পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। ট্রাকটিতে প্রায় ৩০ টন পেঁয়াজ ছিল। প্রথম চালানটি আমদানি করেছে মেসার্স রকি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রকি মিয়া।
তিনি বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আজ ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে ইন্দোর জাতের ভারতীয় ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে বলে।
তবে আজকের আমদানিকৃত পেঁয়াজ ট্রাক সেল হয়েছে প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকা দরে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় ইনভয়েস (চালান মতে) ২৪৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধের উপসহকারী ইউসুফ আলী জানান, বন্দরের ৪ টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত আরও আগে নিলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকতো বলে আমি মনে করি। আবার সরকার ভারত থেকে মাত্র সীমিত পরিসরে ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে, যা খুবই কম। নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি অনুমতি দেওয়ার সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। কারণ একটি ভারতীয় ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। আগে ৪ থেকে ৫ হাজার টন পর্যন্ত আইপি দেওয়া হতো।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমাদের এই বন্দর দিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠান ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। যা আগের তুলনায় অনেক কম। আবার পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আইপি অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বন্দরের ব্যবসায়ীরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেশি করে শুরু হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং আরও কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
হিলি কাস্টমস এর রাজস্ব কর্মকর্তা বাধন বলেন, দীর্ঘ দিন পরে হিলি ভারতীয় একটি ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ দেশের দ্রুত সরবরাহ করতে কাস্টমস সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান৷
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

আপডেট টাইম : ০৯:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার এক দিন পরে দীর্ঘ তিন মাস সাত দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির খবরে বন্দরের খুচরা বাজারে কেজি প্রতি দাম কমেছে ৩০ টাকা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভারত থেকে একটি পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। ট্রাকটিতে প্রায় ৩০ টন পেঁয়াজ ছিল। প্রথম চালানটি আমদানি করেছে মেসার্স রকি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রকি মিয়া।
তিনি বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আজ ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে ইন্দোর জাতের ভারতীয় ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে বাজারে দাম আরও কমে আসবে বলে।
তবে আজকের আমদানিকৃত পেঁয়াজ ট্রাক সেল হয়েছে প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকা দরে বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় ইনভয়েস (চালান মতে) ২৪৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধের উপসহকারী ইউসুফ আলী জানান, বন্দরের ৪ টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছে।
হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত আরও আগে নিলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকতো বলে আমি মনে করি। আবার সরকার ভারত থেকে মাত্র সীমিত পরিসরে ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে, যা খুবই কম। নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি অনুমতি দেওয়ার সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। কারণ একটি ভারতীয় ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। আগে ৪ থেকে ৫ হাজার টন পর্যন্ত আইপি দেওয়া হতো।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার সীমিত পরিসরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমাদের এই বন্দর দিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠান ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছে। যা আগের তুলনায় অনেক কম। আবার পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আইপি অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বন্দরের ব্যবসায়ীরা সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেশি করে শুরু হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং আরও কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
হিলি কাস্টমস এর রাজস্ব কর্মকর্তা বাধন বলেন, দীর্ঘ দিন পরে হিলি ভারতীয় একটি ট্রাকে ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ দেশের দ্রুত সরবরাহ করতে কাস্টমস সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান৷