সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৫৪ বছর পর এমপি পেয়ে আনন্দে ভাসছে গজারিয়াবাসী

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এখন আনন্দের জনপদ। দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন গজারিয়ার কৃতী সন্তান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে গজারিয়ার সন্তান কেএম শামছুল হুদা এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ (গজারিয়া-সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট।
ধানের শীষের প্রার্থী ৩৫ হাজার ৭৫৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর নিজেদের এলাকার সন্তান এমপি নির্বাচিত হওয়ায় পুরো গজারিয়া উপজেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। ভোটের মাঠে জয়ের জন্য দল-মত নির্বিশেষে গজারিয়াবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। গজারিয়া অংশে কামরুজ্জামান রতন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৬৬ ভোট, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৯২ ভোট। ফলে শুধু গজারিয়া অংশেই ধানের শীষের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৩৭০ ভোট।
ভৌগোলিক কারণে জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন গজারিয়া উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন, বিপরীতে সদর উপজেলায় ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাড়াও নদীর এপার-ওপারের বৈষম্যের কারণে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত ছিল গজারিয়া।
কামরুজ্জামান রতনের এই জয়ের মধ্য দিয়ে গজারিয়া এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাত থেকেই উপজেলাজুড়ে মানুষের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে আনন্দের জোয়ার; অনেকেই মুন্সিগঞ্জ সদরের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। কিছু উৎকণ্ঠা ও ছোটখাটো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আসনটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা নুরমহল আশরাফী আনুষ্ঠানিকভাবে কামরুজ্জামান রতনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের ১৬৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১টি পোস্টাল ব্যালটের কেন্দ্রসহ প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৯২ ভোট। বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা পেয়েছেন ২৯৪ ভোট, জাতীয় পার্টির আরিফুজ্জামান দিদার পেয়েছেন ৮০৪ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন পেয়েছেন ৩০৪ ভোট। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল পেয়েছেন ১১৪ ভোট।
পোস্টাল ব্যালটের ভোটকেন্দ্রসহ সর্বমোট কেন্দ্র ছিলো ১৭০টি। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ৪১৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
84
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৪ বছর পর এমপি পেয়ে আনন্দে ভাসছে গজারিয়াবাসী

আপডেট টাইম : ০১:১৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এখন আনন্দের জনপদ। দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন গজারিয়ার কৃতী সন্তান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে গজারিয়ার সন্তান কেএম শামছুল হুদা এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ (গজারিয়া-সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান রতন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট।
ধানের শীষের প্রার্থী ৩৫ হাজার ৭৫৫ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন।
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর নিজেদের এলাকার সন্তান এমপি নির্বাচিত হওয়ায় পুরো গজারিয়া উপজেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। ভোটের মাঠে জয়ের জন্য দল-মত নির্বিশেষে গজারিয়াবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। গজারিয়া অংশে কামরুজ্জামান রতন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৮৬৬ ভোট, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৯২ ভোট। ফলে শুধু গজারিয়া অংশেই ধানের শীষের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৩৭০ ভোট।
ভৌগোলিক কারণে জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন গজারিয়া উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন, বিপরীতে সদর উপজেলায় ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাড়াও নদীর এপার-ওপারের বৈষম্যের কারণে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত ছিল গজারিয়া।
কামরুজ্জামান রতনের এই জয়ের মধ্য দিয়ে গজারিয়া এক নতুন যুগে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রাত থেকেই উপজেলাজুড়ে মানুষের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে আনন্দের জোয়ার; অনেকেই মুন্সিগঞ্জ সদরের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। কিছু উৎকণ্ঠা ও ছোটখাটো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আসনটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা নুরমহল আশরাফী আনুষ্ঠানিকভাবে কামরুজ্জামান রতনকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের ১৬৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১টি পোস্টাল ব্যালটের কেন্দ্রসহ প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুমন দেওয়ান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৯২ ভোট। বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা পেয়েছেন ২৯৪ ভোট, জাতীয় পার্টির আরিফুজ্জামান দিদার পেয়েছেন ৮০৪ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির শেখ মো. কামাল হোসেন পেয়েছেন ৩০৪ ভোট। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মো. শিমুল পেয়েছেন ১১৪ ভোট।
পোস্টাল ব্যালটের ভোটকেন্দ্রসহ সর্বমোট কেন্দ্র ছিলো ১৭০টি। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬ হাজার ৪১৮ ভোট। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।