রাজশাহীতে অবস্থিত এক পর্যটন বারে নিয়মবিরোধীভাবে মদ বিক্রি ও পরিবেশন চলমান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয় জানিয়েছে, ওই বারের লেট নাইট অনুমোদন নেই এবং সরকার ২১ বছরের নিচের ব্যক্তিকে মদ বিক্রি বা পরিবেশনের অনুমতি দেয়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বারের উপরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় রাত ১১টা পর্যন্ত বসে শিক্ষার্থী ও তরুণরা মদ পান করতে পারে। রাত ১১টার পর গেটের মাধ্যমে মদ বিক্রি করা হয়, যা সাধারণ মূল্যের তুলনায় ২০০–৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।
বিশেষ দিনগুলোতে যেমন নিউ ইয়ার, পহেলা বৈশাখ, ঈদ ও পূজা, অতিরিক্ত মদ্যপান ও ড্রিংক করে তরুণরা বাইক চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এই দিনগুলোতে বারে মদ বিক্রি করতে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজমেন্ট খরচ’ বাবদ অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, যার কারণে ভোক্তারা সাধারণ মূল্যের তুলনায় ২০–৩০% বেশি দামে মদ কিনতে বাধ্য হন।
বারের খাবার সেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বারে বসে খাবার কিনতে গেলে বাজার মূল্যের তুলনায় ডবল বা অতিরিক্ত দাম দিতে হয়। কাঁচা বুট বা সাধারণ খাবার যা বাইরে ২০–৩০ টাকায় পাওয়া যায়, বারে ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হয়। স্থানীয়রা বলেন, বার থেকে বাইরে থেকে খাবার আনা নিষিদ্ধ থাকায় ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বারের অতিরিক্ত দামে খাবার কিনতে হয়।
বারের ম্যানেজার সাইদুর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত সময়ে বারের লাইসেন্স ও প্রশাসন আওয়ামী লীগের মহানগর নেতাদের সহযোগিতায় ম্যানেজ করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি সুদে টাকা খাটাই বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের একাধিক অভিযোগের সঙ্গে জড়িত।
বারের কর্মকর্তা রাজ্জাক, ম্যানেজার সাইদুরের নিকট বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। রাজ্জাকের ফেসবুকে আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি প্রচারিত হতো এবং সেই ছবি দেখিয়ে প্রশাসনসহ সবাইকে ভয়ভীতি দেখানো হতো। ৫ আগস্টের পর সেই ছবি ফেসবুক থেকে ডিলেট করা হলেও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়াও রাজ্জাকের বিয়েতে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ওই বারের লেট নাইট অনুমোদন নেই, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শক ‘ক’ সার্কেল হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং আগামীকাল থেকে বারের বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করবেন।
রাজশাহীতে এই পরিস্থিতি আইন ভঙ্গের আওতায় পড়ে, যেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বারের লাইসেন্স শর্ত উভয়ই উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় অপ্রাপ্তবয়সী শিক্ষার্থী ও তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মদ্যপান চলছেই, এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রি করে ঠকানো নিয়মিত সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

মো. সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 




















