সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রমোদভ্রমণে রিসোর্টে ক্ষেতলালের এসিল্যান্ড

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি নিয়ে নিজ কর্ম এলাকা ত্যাগ করে বগুড়ার মমইন রিসোর্টে প্রমোদভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে তিনি বগুড়ার মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে যান।

 

সূত্র মারফত জানা গেছে, এসিল্যান্ড সাজ্জাদ পারভেজ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর জন্য বরাদ্দকৃত মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ মডেলের সরকারি গাড়ি (নম্বর: জয়পুরহাট ঠ-১১-০০৩৪) নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রবেশ করেন। পরে রাত ৯ টার পর গাড়িটি সেখান থেকে বের হয়ে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

 

একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা জারি রয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যখন নিজেরাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রমোদভ্রমণে বের হন, তখন তা জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

অন্যদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সরকারি যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে কিংবা জেলার বাইরে ব্যবহার করা আইন ও শৃঙ্খলাবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, হ্যাঁ আমি বগুড়া গিয়েছিলাম পৌরসভার কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। সেখান থেকে ফেরার পথে মমইনে একটু ড্রপ নিয়েছিলাম।

 

এসিল্যান্ডের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি নিয়ে পৌরসভার কাজে নির্বাচনকালীন সময় জেলার বাইরে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিতো ইউএনও স্যারকে বলে দাপ্তরিক কাজেই গিয়েছিলাম। অফিসে আসেন সামনাসামনি কথা হবে।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, পৌরসভার একটি প্রকল্পের লাইট ও প্রজেক্টর কেনার জন্য তিনি বগুড়া গিয়েছিলো, সেটা আমি আমি জানি। অফিশিয়াল কাজে গিয়ে যদি আসার পথে ব্যক্তিগত কাজে কোথাও দাঁড়ায় বা যায় সেটার দায়বদ্ধতা তার। এটার জন্য তো আর আমার জবাবদিহিতা করার কথা নয়।

 

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল কুমার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আসলে কি বিষয়ে গিয়েছিলেন সেটি আগে জানতে হবে। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাবো।

 

এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

84
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রমোদভ্রমণে রিসোর্টে ক্ষেতলালের এসিল্যান্ড

আপডেট টাইম : ১০:০০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি নিয়ে নিজ কর্ম এলাকা ত্যাগ করে বগুড়ার মমইন রিসোর্টে প্রমোদভ্রমণে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে তিনি বগুড়ার মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে যান।

 

সূত্র মারফত জানা গেছে, এসিল্যান্ড সাজ্জাদ পারভেজ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এর জন্য বরাদ্দকৃত মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ মডেলের সরকারি গাড়ি (নম্বর: জয়পুরহাট ঠ-১১-০০৩৪) নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রবেশ করেন। পরে রাত ৯ টার পর গাড়িটি সেখান থেকে বের হয়ে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

 

একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা জারি রয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যখন নিজেরাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রমোদভ্রমণে বের হন, তখন তা জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

অন্যদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সরকারি যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে কিংবা জেলার বাইরে ব্যবহার করা আইন ও শৃঙ্খলাবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, হ্যাঁ আমি বগুড়া গিয়েছিলাম পৌরসভার কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। সেখান থেকে ফেরার পথে মমইনে একটু ড্রপ নিয়েছিলাম।

 

এসিল্যান্ডের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি নিয়ে পৌরসভার কাজে নির্বাচনকালীন সময় জেলার বাইরে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিতো ইউএনও স্যারকে বলে দাপ্তরিক কাজেই গিয়েছিলাম। অফিসে আসেন সামনাসামনি কথা হবে।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, পৌরসভার একটি প্রকল্পের লাইট ও প্রজেক্টর কেনার জন্য তিনি বগুড়া গিয়েছিলো, সেটা আমি আমি জানি। অফিশিয়াল কাজে গিয়ে যদি আসার পথে ব্যক্তিগত কাজে কোথাও দাঁড়ায় বা যায় সেটার দায়বদ্ধতা তার। এটার জন্য তো আর আমার জবাবদিহিতা করার কথা নয়।

 

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল কুমার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আসলে কি বিষয়ে গিয়েছিলেন সেটি আগে জানতে হবে। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাবো।

 

এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।