সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ সাংবাদিক শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী, এখনো শুরু হয়নি বিচার

আজ সাংবাদিক শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী, এখনো শুরু হয়নি বিচার। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী আজ। দীর্ঘ ৯ বছর পেরোলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন পর্যন্ত শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও সহকর্মী সাংবাদিকরা।

 

 

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক শিমুল হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার ৯ বছর পার হলেও বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকার অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর মাধ্যমে খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

 

শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ জাফর লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল সরকার, সাবেক সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডু, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি আতাউর রহমান পিন্টু, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আবুল কাশেম, মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সাগর বসাক প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে নিহত শিমুলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

 

 

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র হালিমুল হক মিরু ও ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন শিমুল। পরদিন ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

 

 

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি মামলাটি শাহজাদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং পরবর্তীতে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ শিমুল হত্যা মামলা চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর আসামিপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে এটি স্থগিত করে। বাদী নূরুননাহার সুপ্রীমকোর্টের আপিলেড ডিভিশনে লিভ টু আপীল করলে আপিলেট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ৬ সপ্তাহের মধ্যে রুল নিস্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপরও ৫ বছর পার হয়, কিন্তু বিচার শুরু হয়নি।

 

 

শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিমল কুন্ডু বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে শিমুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অথচ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির বিচার এখনো শুরু হয়নি। বর্তমানে মামলার স্বাক্ষী ও আসামিরা সবাই পলাতক থাকায় বিচার নিয়ে আরও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ সাংবাদিক শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী, এখনো শুরু হয়নি বিচার

আপডেট টাইম : ০৫:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী আজ। দীর্ঘ ৯ বছর পেরোলেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন পর্যন্ত শুরু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও সহকর্মী সাংবাদিকরা।

 

 

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিমুল হত্যার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক শিমুল হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার ৯ বছর পার হলেও বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় আমরা হতাশ। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকার অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরুর মাধ্যমে খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

 

শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ জাফর লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল সরকার, সাবেক সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডু, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি আতাউর রহমান পিন্টু, দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আবুল কাশেম, মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সাগর বসাক প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে নিহত শিমুলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

 

 

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র হালিমুল হক মিরু ও ছাত্রলীগ নেতা বিজয় মাহমুদ সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন শিমুল। পরদিন ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

 

 

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি মামলাটি শাহজাদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং পরবর্তীতে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ শিমুল হত্যা মামলা চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর আসামিপক্ষ হাইকোর্টে রিট করে এটি স্থগিত করে। বাদী নূরুননাহার সুপ্রীমকোর্টের আপিলেড ডিভিশনে লিভ টু আপীল করলে আপিলেট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর ৬ সপ্তাহের মধ্যে রুল নিস্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপরও ৫ বছর পার হয়, কিন্তু বিচার শুরু হয়নি।

 

 

শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিমল কুন্ডু বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে শিমুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অথচ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির বিচার এখনো শুরু হয়নি। বর্তমানে মামলার স্বাক্ষী ও আসামিরা সবাই পলাতক থাকায় বিচার নিয়ে আরও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।