সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উল্লাপাড়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, সমীকরণে আ’ লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এম. আকবর আলী এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মুফতি আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে হিলটন প্রামাণিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাস্তে প্রতীকে আব্দুল হাকিম নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা খাতে অবদানের বিষয়টি প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
নির্বাচনী প্রচারণায় এম. আকবর আলী বলেন, এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন। নির্বাচিত হলে উল্লাপাড়ায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উল্লাপাড়াকে শিক্ষা নগরী হিসেবে আরও উন্নত করতে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। নির্বাচনী এলাকার মানুষকে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন দলীয় সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকায় তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দিতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধে কাজ করার পাশাপাশি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয়ভাবে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উল্লাপাড়া আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি এই ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা
ভোটার বেড়ে নতুন সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৫১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৬ জন।
সর্বশেষ হালনাগাদে নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৭৪ জন। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৩ জন।
স্থানীয়দের মতে, নতুন ও নারী ভোটার বৃদ্ধির কারণে এবারের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে থাকলেও তাদের ভোট মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার আভাস মিলছে। ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এবং বিভিন্ন ভোটব্যাংকের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উল্লাপাড়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, সমীকরণে আ’ লীগ ও সংখ্যালঘু ভোট

আপডেট টাইম : ০৬:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এম. আকবর আলী এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মুফতি আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে হিলটন প্রামাণিক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাস্তে প্রতীকে আব্দুল হাকিম নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থী এম. আকবর আলী দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা খাতে অবদানের বিষয়টি প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
নির্বাচনী প্রচারণায় এম. আকবর আলী বলেন, এটি তার জীবনের শেষ নির্বাচন। নির্বাচিত হলে উল্লাপাড়ায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উল্লাপাড়াকে শিক্ষা নগরী হিসেবে আরও উন্নত করতে নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। নির্বাচনী এলাকার মানুষকে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন দলীয় সাংগঠনিক শক্তির ওপর নির্ভর করছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকায় তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দিতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি বন্ধে কাজ করার পাশাপাশি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয়ভাবে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উল্লাপাড়া আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি এই ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা
ভোটার বেড়ে নতুন সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৫১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৬ জন।
সর্বশেষ হালনাগাদে নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৭৪ জন। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৩ জন।
স্থানীয়দের মতে, নতুন ও নারী ভোটার বৃদ্ধির কারণে এবারের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে থাকলেও তাদের ভোট মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার আভাস মিলছে। ভোটার উপস্থিতি, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এবং বিভিন্ন ভোটব্যাংকের অবস্থানই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।