সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৫৪ বছরের রাজনীতিতে কেউই ফেরেশতা নয়: ডা. শফিকুর রহমান

সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন বিগত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই লুটপাট করেছেন। কেউ বেশি করেছেন কেউ কম। গত ১৭ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই আমি বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, রাজনীতি করেছি। আমি আজ জামায়াতের আমির নয়, আপনাদের সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা অনেককে সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমি কথা দিচ্ছি আমরা মালিক নই, আপনাদের পাহারাদার হয়ে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠন করব। আমরা চিংড়ির মতো হাঁটতে চাই না, আমরা সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

 

শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব দিলে যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে তাদের কাউকে শান্তিতে থাকতে দেব না। মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করা হবে। সব টাকা উদ্ধার করে দেশের কোষাগারে জমা করা হবে। আমরা দায়িত্ব পেলে কারো ঘুস খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কেউ ঘুষ দেয়ার প্রয়োজন হবে না, ঘুস খাওয়ার সাহসও পাবে না।

তিনি বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আগামী ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস হবে ইনশাল্লাহ। ১৩ তারিখ একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট যখন আমরা জালিমের হাত থেকে মুক্তি পেলাম, তখন আমরা মিছিল না করে, শুকরিয়া আদায় করে সেজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমরা সবাইকে বলেছিলাম আমরা মজলুমরা যেন জালিম না হই। আমরা যেন অতীতের জালিমদের মতো না হই। আমাদের কথা যারা রেখেছেন তাদেরকে অভিনন্দন।

 

 

তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জে ইঁদুর নাকি বাঁধ কেটে ফেলে, আগামীতে ঘরের ইঁদুর আর বাঁধ কাটতে দেওয়া হবে না। জেলেদের নামে জলাশয় কারা নেয়, আমরা জানি। এসব রুখে দেয়া হবে। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ। রাজার ছেলে রাজা হবে, রানির ছেলে রাজা হবে, এটা হতে দেয়া হবেনা। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই।

 

 

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার ৬টি ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সাথে সাথে দাঁড়িপাল্লা, দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীক নিয়ে স্লোগান তোলেন।

 

 

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৪ বছরের রাজনীতিতে কেউই ফেরেশতা নয়: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৭:১১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন বিগত ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুটপাট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই লুটপাট করেছেন। কেউ বেশি করেছেন কেউ কম। গত ১৭ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

 

 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি সিলেটের সন্তান, এখানেই আমি বড় হয়েছি, লেখাপড়া করেছি, রাজনীতি করেছি। আমি আজ জামায়াতের আমির নয়, আপনাদের সন্তান হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। আপনারা অনেককে সুযোগ দিয়েছেন, আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমি কথা দিচ্ছি আমরা মালিক নই, আপনাদের পাহারাদার হয়ে ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠন করব। আমরা চিংড়ির মতো হাঁটতে চাই না, আমরা সিংহের মতো থাবা মেরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

 

শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব দিলে যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে তাদের কাউকে শান্তিতে থাকতে দেব না। মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে বের করা হবে। সব টাকা উদ্ধার করে দেশের কোষাগারে জমা করা হবে। আমরা দায়িত্ব পেলে কারো ঘুস খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। কেউ ঘুষ দেয়ার প্রয়োজন হবে না, ঘুস খাওয়ার সাহসও পাবে না।

তিনি বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আগামী ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস হবে ইনশাল্লাহ। ১৩ তারিখ একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট যখন আমরা জালিমের হাত থেকে মুক্তি পেলাম, তখন আমরা মিছিল না করে, শুকরিয়া আদায় করে সেজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমরা সবাইকে বলেছিলাম আমরা মজলুমরা যেন জালিম না হই। আমরা যেন অতীতের জালিমদের মতো না হই। আমাদের কথা যারা রেখেছেন তাদেরকে অভিনন্দন।

 

 

তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জে ইঁদুর নাকি বাঁধ কেটে ফেলে, আগামীতে ঘরের ইঁদুর আর বাঁধ কাটতে দেওয়া হবে না। জেলেদের নামে জলাশয় কারা নেয়, আমরা জানি। এসব রুখে দেয়া হবে। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ। রাজার ছেলে রাজা হবে, রানির ছেলে রাজা হবে, এটা হতে দেয়া হবেনা। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই।

 

 

বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান সিলেট জেলার ৬টি ও সুনামগঞ্জ জেলার ৩টি আসনের প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সাথে সাথে দাঁড়িপাল্লা, দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীক নিয়ে স্লোগান তোলেন।

 

 

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।