সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নৌকা নির্মাণে ব্যস্ত সময় কাটছে উল্লাপাড়ার কারিগরদের

নরওয়ের জার্সিতে হালান্ড। ছবি : সংগৃহীত

বর্ষার আগমনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা তৈরির কারখানাগুলোতে এখন কারিগরদের চরম ব্যস্ততার সময় পার হচ্ছে।

 

 

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪২টি কারখানায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঠ চেরাই আর পেরেক ঠোকার শব্দে মুখর হয়ে আছে পরিবেশ। বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত ও আশেপাশের নিম্নাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন হওয়ায় কাঠের তৈরি এসব নৌকার কদর এখন সবচেয়ে বেশি।
বর্ষা এলেই গ্রামগঞ্জে বেড়ে যায় নৌকার কদর। এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার, মাছ ধরা, গোখাদ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন এলাকায় খেয়া পারাপারের জন্য নৌকা অতি জরুরি বাহন হিসেবে প্রতিটি গ্রামে বর্ষা মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাহন হিসেবে পরিগণিত।

 

 

 

উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চন্দ্রগাঁতী কামার পাড়া গ্রামে প্রায় ১০-১২টি নৌকা তৈরির কারখানা রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কারখানায় নৌকা তৈরির কারিগররা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছে, কেউ বা হাতুড়ি দিয়ে নৌকায় পেরেক লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

 

 

 

চঁন্দগাতী ও গয়হাট্টা নৌকা তৈরির কারিগর মো. মহর আলী আকন্দ বলেন, বর্ষার এ মৌসুমে নৌকার ব্যাপক চাহিদা থাকে আর সে কারণে আমরা দিন রাত পরিশ্রম করে নৌকা তৈরি করছি। গতবারের চেয়ে দামও একটু বেশি। নৌকা বিক্রির টাকায় আমরা পরিবার নিয়ে ভালোই আছি।

 

 

কারখানার মালিক আব্দুল আলীম জানান, আমাদের এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় নৌকা তৈরি করা হয়। বড় নৌকার চেয়ে ছোট নৌকা নৌকার চাহিদা বেশি। বারো হাত নৌকা ৬০০০-৭০০০ হাজার টাকা, এগারো হাত নৌকা ৬০০০-৭৫০০ টাকা এবং চোদ্দ হাত নৌকা ৯০০০-১০০০০ টাকা বিক্র করা হয়। কাঠ ও লোহাসহ নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় আগের মতো আর লাভ হয় না। তবে পুর্ব পুরুষের এই ব্যবসা কোনো মতে ধরে আছি।

 

 

 

নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল খালেক জানান, বর্ষা মৌসুম এলে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকি। এই সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমরা অতিরিক্ত কিছু আয় করতে পারি। তিনি আরো জানান, একজন ব্যক্তি একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে একদিন সময় লাগে। আর এ ছোট নৌকা তৈরির মুজুরী পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ শত টাকা। ১২ ফুটের নৌকা বানাতে ২ জন মিস্ত্রির এক দিন সময় লাগে। আর এ ১২ ফুট নৌকা বানানোর মুজুরি ১২০০ টাকা পাওয়া যায়। তবে নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়লেও বাড়েনি আমাদের শ্রম মুজুরির দাম।

 

 

নৌকা কারিগর ইয়াদ আলী জানান, আমি ছোট একটা ব্যবসা করি এবং ব্যবসার পাশাপাশি নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। বর্ষার পানি কম হলে নৌকার চাহিদা কমে যায়, যার ফলে কারিগরদের আয় রোজগার ও নৌকা বিক্রি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বর্ষায় পানি না এলে নদী বা খাল-বিলে নৌকা চলাচল করতে পারে না। এই মৌসুমে স্থানীয় কারিগরদের নতুন নৌকা তৈরি বা মেরামতের কাজ কমে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ বছর বর্ষা পানি কম আসায় আমাদের বেচা বিক্রি কম।

 

 

 

চাকসা গ্রামের নাছির উদ্দিন নৌকা ক্রয়ের জন্য নৌকা কারখানায় এলে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই নিচু এলাকাতে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয় কারন গ্রামের রাস্তাগুলো নিচু হওয়ায় বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। তাই নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। তখন নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের ভরসা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

নৌকা নির্মাণে ব্যস্ত সময় কাটছে উল্লাপাড়ার কারিগরদের

আপডেট টাইম : ০১:৪০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বর্ষার আগমনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌকা তৈরির কারখানাগুলোতে এখন কারিগরদের চরম ব্যস্ততার সময় পার হচ্ছে।

 

 

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪২টি কারখানায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাঠ চেরাই আর পেরেক ঠোকার শব্দে মুখর হয়ে আছে পরিবেশ। বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত ও আশেপাশের নিম্নাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন হওয়ায় কাঠের তৈরি এসব নৌকার কদর এখন সবচেয়ে বেশি।
বর্ষা এলেই গ্রামগঞ্জে বেড়ে যায় নৌকার কদর। এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার, মাছ ধরা, গোখাদ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন এলাকায় খেয়া পারাপারের জন্য নৌকা অতি জরুরি বাহন হিসেবে প্রতিটি গ্রামে বর্ষা মৌসুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাহন হিসেবে পরিগণিত।

 

 

 

উপজেলার বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের চন্দ্রগাঁতী কামার পাড়া গ্রামে প্রায় ১০-১২টি নৌকা তৈরির কারখানা রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কারখানায় নৌকা তৈরির কারিগররা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ করাত দিয়ে কাঠ কাটছে, কেউ বা হাতুড়ি দিয়ে নৌকায় পেরেক লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

 

 

 

চঁন্দগাতী ও গয়হাট্টা নৌকা তৈরির কারিগর মো. মহর আলী আকন্দ বলেন, বর্ষার এ মৌসুমে নৌকার ব্যাপক চাহিদা থাকে আর সে কারণে আমরা দিন রাত পরিশ্রম করে নৌকা তৈরি করছি। গতবারের চেয়ে দামও একটু বেশি। নৌকা বিক্রির টাকায় আমরা পরিবার নিয়ে ভালোই আছি।

 

 

কারখানার মালিক আব্দুল আলীম জানান, আমাদের এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় নৌকা তৈরি করা হয়। বড় নৌকার চেয়ে ছোট নৌকা নৌকার চাহিদা বেশি। বারো হাত নৌকা ৬০০০-৭০০০ হাজার টাকা, এগারো হাত নৌকা ৬০০০-৭৫০০ টাকা এবং চোদ্দ হাত নৌকা ৯০০০-১০০০০ টাকা বিক্র করা হয়। কাঠ ও লোহাসহ নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় আগের মতো আর লাভ হয় না। তবে পুর্ব পুরুষের এই ব্যবসা কোনো মতে ধরে আছি।

 

 

 

নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল খালেক জানান, বর্ষা মৌসুম এলে নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকি। এই সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমরা অতিরিক্ত কিছু আয় করতে পারি। তিনি আরো জানান, একজন ব্যক্তি একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে একদিন সময় লাগে। আর এ ছোট নৌকা তৈরির মুজুরী পাওয়া যায় ৮ থেকে ৯ শত টাকা। ১২ ফুটের নৌকা বানাতে ২ জন মিস্ত্রির এক দিন সময় লাগে। আর এ ১২ ফুট নৌকা বানানোর মুজুরি ১২০০ টাকা পাওয়া যায়। তবে নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়লেও বাড়েনি আমাদের শ্রম মুজুরির দাম।

 

 

নৌকা কারিগর ইয়াদ আলী জানান, আমি ছোট একটা ব্যবসা করি এবং ব্যবসার পাশাপাশি নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। বর্ষার পানি কম হলে নৌকার চাহিদা কমে যায়, যার ফলে কারিগরদের আয় রোজগার ও নৌকা বিক্রি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বর্ষায় পানি না এলে নদী বা খাল-বিলে নৌকা চলাচল করতে পারে না। এই মৌসুমে স্থানীয় কারিগরদের নতুন নৌকা তৈরি বা মেরামতের কাজ কমে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ বছর বর্ষা পানি কম আসায় আমাদের বেচা বিক্রি কম।

 

 

 

চাকসা গ্রামের নাছির উদ্দিন নৌকা ক্রয়ের জন্য নৌকা কারখানায় এলে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই নিচু এলাকাতে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয় কারন গ্রামের রাস্তাগুলো নিচু হওয়ায় বন্যার পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। তাই নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। তখন নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের ভরসা।