সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে এমপি রফিকুল ইসলাম খান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৎপরতা দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

 

 

 

 

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান, পরিমাণ ও পরিবেশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় খাবার সরবরাহে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাঁর নজরে আসে বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য সরকারিভাবে যে খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যথাযথ মান ও পরিমাণে রোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।

 

 

 

 

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে ডেপুটেশনে থাকায় পাঁচজন দায়িত্বে নেই। বর্তমানে ১৮ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি পদগুলোও শূন্য রয়েছে।’

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি।

 

 

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি এ হাসপাতালের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

 

 

 

 

 

তাই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, খাবার সরবরাহ, ওষুধ ও অন্যান্য সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

 

 

 

সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘রোগীরা যেন হাসপাতালে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ, পরিদর্শনে এমপি রফিকুল ইসলাম খান

আপডেট টাইম : ০৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৎপরতা দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

 

 

 

 

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান, পরিমাণ ও পরিবেশনের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় খাবার সরবরাহে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাঁর নজরে আসে বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য সরকারিভাবে যে খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যথাযথ মান ও পরিমাণে রোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।

 

 

 

 

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে ডেপুটেশনে থাকায় পাঁচজন দায়িত্বে নেই। বর্তমানে ১৮ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি পদগুলোও শূন্য রয়েছে।’

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তিনি।

 

 

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি এ হাসপাতালের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

 

 

 

 

 

তাই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, খাবার সরবরাহ, ওষুধ ও অন্যান্য সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

 

 

 

 

সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘রোগীরা যেন হাসপাতালে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’