সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিউল আলমের অব্যাহতির আদেশ নিয়ে বাদীর আপত্তি শুনানী রোববার

নিহত তামিম

দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলা থেকে বিএনপি নেতা এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে অব্যাহতির আদেশ নিয়ে বাদীর আপত্তি শুনানী হবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তেরতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি হবে।

 

 

 

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, গত ২৭ অগাস্ট রিভিশন শুনানির দিন ছিল। তবে তা পিছিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখা হয়েছে।

 

 

 

 

এর আগে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় আক্রমণের শিকার হন তামিম। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

এ ঘটনায় পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের এমডি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ১১-১২ জনকে আসামি করা হয়।

 

 

 

 

মামলার দিনই ডিএমপির তরফে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছিল, শেখ রবিউল আলম রবির প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন তৈরি করে। সেই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মামুনের শ্বশুর ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের কাছ থেকে কিনেছিলেন, যেটি নিহতের বাবার বলে পরিবারটি দাবি করে আসছে। এ নিয়েই তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

 

 

 

 

ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। তবে রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

 

 

 

 

এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ।

 

 

 

 

এতে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা সত্য উদঘাটনের জন্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন নাই। বাদী যে ক’জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন তাও সাক্ষীদের হুবহু নয়। ইচ্ছেমত জবানবন্দি নেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

 

 

 

অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বাদী মামলাটি পুনঃতদন্তের আর্জি জানান।

 

 

 

 

তবে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ ৩ মার্চ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। রবিউল আলমসহ ৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন নেই মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

 

 

 

 

এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন বাদী সুলতান আহমেদ, যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে রোববার।

 

 

 

 

এ মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, তারা হলেন—প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক, মাহফুজার রহমান।

 

 

 

 

যারা অব্যাহতি পেয়েছেন, তারা হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

 

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, “মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছি।

 

 

 

 

 

“যাদের সম্পৃক্ত পেয়েছি, তাদের অভিযুক্ত করেছি। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।”

 

 

 

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, “অনেক বড় অভিযোগপত্র দিয়েছি। যারা অভিযুক্ত, তারা কেন অভিযুক্ত হয়েছেন বিস্তারিত তুলে ধরেছি।

 

 

 

 

“আর যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো তাও তুলে ধরেছি। কাজেই প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নাই।

 

 

 

 

“আর আমি যখন মামলার তদন্ত করি, তখন কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে ছিল না। সরকারে ছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। কাজেই সেই সুযোগ নেই।”

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিউল আলমের অব্যাহতির আদেশ নিয়ে বাদীর আপত্তি শুনানী রোববার

আপডেট টাইম : ১১:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলা থেকে বিএনপি নেতা এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে অব্যাহতির আদেশ নিয়ে বাদীর আপত্তি শুনানী হবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তেরতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি হবে।

 

 

 

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বলেন, গত ২৭ অগাস্ট রিভিশন শুনানির দিন ছিল। তবে তা পিছিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখা হয়েছে।

 

 

 

 

এর আগে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় আক্রমণের শিকার হন তামিম। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

এ ঘটনায় পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের এমডি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ১১-১২ জনকে আসামি করা হয়।

 

 

 

 

মামলার দিনই ডিএমপির তরফে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছিল, শেখ রবিউল আলম রবির প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন তৈরি করে। সেই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মামুনের শ্বশুর ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের কাছ থেকে কিনেছিলেন, যেটি নিহতের বাবার বলে পরিবারটি দাবি করে আসছে। এ নিয়েই তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

 

 

 

 

ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। তবে রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

 

 

 

 

এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ।

 

 

 

 

এতে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা সত্য উদঘাটনের জন্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন নাই। বাদী যে ক’জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন তাও সাক্ষীদের হুবহু নয়। ইচ্ছেমত জবানবন্দি নেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

 

 

 

অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বাদী মামলাটি পুনঃতদন্তের আর্জি জানান।

 

 

 

 

তবে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ ৩ মার্চ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। রবিউল আলমসহ ৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন নেই মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

 

 

 

 

এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন বাদী সুলতান আহমেদ, যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে রোববার।

 

 

 

 

এ মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, তারা হলেন—প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক, মাহফুজার রহমান।

 

 

 

 

যারা অব্যাহতি পেয়েছেন, তারা হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।

 

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, “মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছি।

 

 

 

 

 

“যাদের সম্পৃক্ত পেয়েছি, তাদের অভিযুক্ত করেছি। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।”

 

 

 

 

 

এক প্রশ্নের জবাবে এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, “অনেক বড় অভিযোগপত্র দিয়েছি। যারা অভিযুক্ত, তারা কেন অভিযুক্ত হয়েছেন বিস্তারিত তুলে ধরেছি।

 

 

 

 

“আর যাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো তাও তুলে ধরেছি। কাজেই প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নাই।

 

 

 

 

“আর আমি যখন মামলার তদন্ত করি, তখন কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে ছিল না। সরকারে ছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। কাজেই সেই সুযোগ নেই।”