সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুর্গোৎসবের সাজে সিরাজগঞ্জ চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ জন দেখেছেন

বিজয় আহমেদ সাগর  জনতার কণ্ঠ.কম

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বাকি মাত্র অল্পকদিন। এ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রতিমা তৈরির ধুম।
মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সিরাজগঞ্জের শ্রী শ্রী মহা প্রভুর আখরাসহ বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পালপাড়া প্রতিমা তৈরীর জন্য অন্যতম। প্রায় ৭০-৭৫ বছর ধরে এখানকার কারিগররা প্রতিমা তৈরি করছেন। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, এখানকার প্রতিমা যাচ্ছে টাঙ্গাইল, পাবনা, নাটোর ও বগুড়াসহ আশপাশের জেলাগুলোর পূজামণ্ডপে।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলার ৫১১টি মন্দিরে চলছে প্রস্তুতি। পালপাড়ার কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। গত তিন মাস ধরে টানা কাজ করছেন তারা। শুধু পুরুষ নয়, বাড়ির নারী, শিশু, ছাত্রছাত্রী, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। কেউ প্রতিমা গড়ছেন, কেউ সাজের কাজ করছেন সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের পরিবেশ।
বর্তমানে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলছে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। পালপাড়ার ১৩টি বাড়িতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এবার প্রায় ১৫০টি মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বগুড়া, পাবনা ও রংপুর থেকেও কারিগর এসেছেন। তাদের দৈনিক ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে, সঙ্গে খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়।
ইতোমধ্যে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শুভ মহালয়ার মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। এইদিন ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো এবং দেবীর চক্ষু দান করা হয়। মহালয়া উপলক্ষে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মন্ডপে ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক টিম পালপাড়ায় টহল দিচ্ছে।

83
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গোৎসবের সাজে সিরাজগঞ্জ চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপডেট টাইম : ০৮:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিজয় আহমেদ সাগর  জনতার কণ্ঠ.কম

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বাকি মাত্র অল্পকদিন। এ দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রতিমা তৈরির ধুম।
মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সিরাজগঞ্জের শ্রী শ্রী মহা প্রভুর আখরাসহ বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পালপাড়া প্রতিমা তৈরীর জন্য অন্যতম। প্রায় ৭০-৭৫ বছর ধরে এখানকার কারিগররা প্রতিমা তৈরি করছেন। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, এখানকার প্রতিমা যাচ্ছে টাঙ্গাইল, পাবনা, নাটোর ও বগুড়াসহ আশপাশের জেলাগুলোর পূজামণ্ডপে।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলার ৫১১টি মন্দিরে চলছে প্রস্তুতি। পালপাড়ার কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। গত তিন মাস ধরে টানা কাজ করছেন তারা। শুধু পুরুষ নয়, বাড়ির নারী, শিশু, ছাত্রছাত্রী, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। কেউ প্রতিমা গড়ছেন, কেউ সাজের কাজ করছেন সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের পরিবেশ।
বর্তমানে প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলছে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ। পালপাড়ার ১৩টি বাড়িতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এবার প্রায় ১৫০টি মণ্ডপের জন্য প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বগুড়া, পাবনা ও রংপুর থেকেও কারিগর এসেছেন। তাদের দৈনিক ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে, সঙ্গে খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়।
ইতোমধ্যে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) শুভ মহালয়ার মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। এইদিন ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো এবং দেবীর চক্ষু দান করা হয়। মহালয়া উপলক্ষে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মন্ডপে ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক টিম পালপাড়ায় টহল দিচ্ছে।