সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল ৭০০ হেক্টর জমির ধান

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

২৪ ঘণ্টা ধরে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে চলনবিল অধ্যুষিত শস্যভান্ডার সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ঝড়ো বাতাসে ধান নুয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে কৃষকের ক্ষতির আশংকা বেড়েছে।

 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টানা দুদিন ধরে তাড়াশ উপজেলাজুড়ে মুষল ধারে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। এতে কৃষকের জমির পাকা ও আধা পাকা ধান তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথায় ঝড়ে ধান নুয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউতা গ্রামের কৃষক ইসহাক আলীর প্রায় ১০ বিঘা, গোন্তা গ্রামের কৃষক সোলায়মান হোসেন মাস্টারের প্রায় ১৫ বিঘা, কৃষক আরমান সরকারের প্রায় ৬ বিঘা, পাড়িল গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিনের ৪ বিঘাসহ এমনই করে উপজেলার তালম, দেশিগ্রাম, বারুহাস, মাধাইনগর, নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকার কৃষকদের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ হেক্টর রোপা আমন ধান বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়েছে।

 

উত্তর শ্যামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে জমে থাকা পানি তাড়াতাড়ি নিষ্কাশন না করতে পারলে নুয়ে পড়া পাঁকা ও আধাপাঁকা ধান জমিতেই অংকুরিত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

 

পাড়িল গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল ও জলাশয় দখল, পুকুর খননসহ নানা কারণে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক  কৃষকের ধান ক্ষতির আশংকায় রয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে চলতি বছরে তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আব্দুল গুটি, কাটারীভোগ, ব্রি-৯০, ৪৯, ৫১, ৩৪ ও ৩৬ জাতসহ বিভিন্ন জাতের রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছিল। আর বর্তমানে উপজেলার তালম ও দেশিগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় স্বল্প পরিসরে পাঁকা রোপা আমন ধান কাটা শুরু হলেও বেশিভাগ জমিতে পুরোদমে  ধান কাটতে আরো ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাড়াশ অঞ্চলে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, রোপা আমন ধানের জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে জরুরি পরামর্শ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। আর আবহাওয়া ভালো হলে দু তিনদিনের মধ্যে জমির পানিতে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।

ট্যাগ :
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল ৭০০ হেক্টর জমির ধান

আপডেট টাইম : ০২:৫৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম

২৪ ঘণ্টা ধরে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে চলনবিল অধ্যুষিত শস্যভান্ডার সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রায় ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ঝড়ো বাতাসে ধান নুয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে কৃষকের ক্ষতির আশংকা বেড়েছে।

 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টানা দুদিন ধরে তাড়াশ উপজেলাজুড়ে মুষল ধারে বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। এতে কৃষকের জমির পাকা ও আধা পাকা ধান তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথায় ঝড়ে ধান নুয়ে পানির সঙ্গে মিশে গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউতা গ্রামের কৃষক ইসহাক আলীর প্রায় ১০ বিঘা, গোন্তা গ্রামের কৃষক সোলায়মান হোসেন মাস্টারের প্রায় ১৫ বিঘা, কৃষক আরমান সরকারের প্রায় ৬ বিঘা, পাড়িল গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিনের ৪ বিঘাসহ এমনই করে উপজেলার তালম, দেশিগ্রাম, বারুহাস, মাধাইনগর, নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকার কৃষকদের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ হেক্টর রোপা আমন ধান বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়েছে।

 

উত্তর শ্যামপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, জমিতে জমে থাকা পানি তাড়াতাড়ি নিষ্কাশন না করতে পারলে নুয়ে পড়া পাঁকা ও আধাপাঁকা ধান জমিতেই অংকুরিত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

 

পাড়িল গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল ও জলাশয় দখল, পুকুর খননসহ নানা কারণে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক  কৃষকের ধান ক্ষতির আশংকায় রয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে চলতি বছরে তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আব্দুল গুটি, কাটারীভোগ, ব্রি-৯০, ৪৯, ৫১, ৩৪ ও ৩৬ জাতসহ বিভিন্ন জাতের রোপা আমনের আবাদ করা হয়েছিল। আর বর্তমানে উপজেলার তালম ও দেশিগ্রাম ইউনিয়ন এলাকায় স্বল্প পরিসরে পাঁকা রোপা আমন ধান কাটা শুরু হলেও বেশিভাগ জমিতে পুরোদমে  ধান কাটতে আরো ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাড়াশ অঞ্চলে ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, রোপা আমন ধানের জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে জরুরি পরামর্শ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। আর আবহাওয়া ভালো হলে দু তিনদিনের মধ্যে জমির পানিতে নুয়ে পড়া ধানের তেমন ক্ষতি হবে না।