সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাণীনগরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৬:২২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ জন দেখেছেন
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
নওগাঁর রাণীনগরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (১ম ও ২য় সংশোধিত) প্রকল্পের উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের বরাদ্দ অনুসারে প্রদর্শনীর কৃষকদের সকল উপকরণ সরবরাহ না করা, নিম্মমানের সবজির বীজ সরবরাহ করাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুষ্টি বাগান প্রদর্শনীর কৃষকদের জৈব সার হিসেবে এক বস্তা নিম্নমানের ট্রাইকো কম্পোস্ট সার প্রদান করা হয়েছে যে বস্তাটি শুধু ছাই এবং মাটি দিয়ে ভরা ছিলো। এছাড়া প্রদর্শনীসহ অন্যান্য সকল প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ না করেই কৃষকদের কাছ থেকে ফাঁকা রেজিস্টারে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে কৃষক সূত্রে জানা গেছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের জন্য কৃষি অফিসে আসা প্রতিটি প্রকল্প ও কৃষি প্রণোদনার উপকরণগুলো প্রকৃত কৃষকরা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। কৃষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিস স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় দুই ধাপে একশতটি পারিবারিক পুষ্টি বাগানের প্রদর্শনী প্রদান করা হয়েছে। যে সকল প্রদর্শনীর বরাদ্দকৃত বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বছরের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক ড. মো: আকরাম হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী স্থাপনের ভাংতি বিবরণী থেকে জানা যায় প্রদর্শনী প্রাপ্ত প্রতিজন কৃষক ১ হাজার টাকা মূল্যের বীজ/চারা (সবজি, স্বল্পকালিন ফল, ভেষজ, মসলা ও লতানো সবজি-১ম মৌসুম) থোক বরাদ্দ পাবেন। এছাড়া ৫শত টাকা মূল্যের জৈব/অবৈজ সার, ২শত টাকা মূল্যের ভার্মিকম্পোস্ট সার, ৭শত টাকা মূল্যের বেড়া/নেট, ৩শত টাকা মূল্যের সবজি বীজ সংরক্ষণের পাত্র, ৫শত টাকা মূল্যের সাইন বোর্ড, বিবিধ (উপকরণ, পরিবহণ, রেজিস্টার ইত্যাদি) যার মূল্য ২শত টাকা ও ১ হাজার টাকা মূল্যের পরবর্তী ২ মৌসুমের বীজ/চারা পাওয়ার কথা। অপরদিকে প্রকল্প সদর দপ্তর হতে সরবরাহ করা প্রত্যেক প্রদর্শনীর জন্য ১টি করে পানির ঝাঁঝরিও এখন পর্যন্ত সরবরাহ করার কথা। অথচ বছর শেষ হলেও প্রদর্শনী পাওয়া কৃষকরা হাতে গোনা কয়েকটি নিম্মমানের উপকরণ ছাড়া বরাদ্দের সকল উপকরণ এখনো পর্যন্ত পাননি বলে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা গেছে।
পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী পাওয়া উপজেলার ভেটী গ্রামের দিলদার হোসেনের ছেলে আদর্শ কৃষক মো: আসলাম হোসেন মুঠোফোনে জানান তিনি চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একটি পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী পেয়েছেন। তিনি প্রকল্পের বরাদ্দ হিসেবে একটি সাইন বোর্ড, ক্ষুদ্র চারটি ফলের গাছ, বেড়া হিসেবে নেট, কিছু সবজির বীজ, এক বস্তা জৈব সার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি আর কিছুই পাননি। অফিস থেকে যে সকল সবজির বীজ দুইবার তিনি পেয়েছেন সেগুলো বপনের পর গাছ না ওঠায় তিনি পুনরায় বাজার থেকে সবজির বীজ কিনে এনে বাগানে বপন করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: মোস্তাকিমা খাতুন মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান প্রতিটি প্রদর্শনীর কৃষকদের মাঝে সকল উপকরণ সঠিক ভাবে বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ ও প্রণোদনার উপকরণ সঠিক ভাবে সঠিক কৃষকদের মাঝেই বিতরণ করা হচ্ছে।
78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাণীনগরে পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

আপডেট টাইম : ০৬:২২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
নওগাঁর রাণীনগরে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (১ম ও ২য় সংশোধিত) প্রকল্পের উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের বরাদ্দ অনুসারে প্রদর্শনীর কৃষকদের সকল উপকরণ সরবরাহ না করা, নিম্মমানের সবজির বীজ সরবরাহ করাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুষ্টি বাগান প্রদর্শনীর কৃষকদের জৈব সার হিসেবে এক বস্তা নিম্নমানের ট্রাইকো কম্পোস্ট সার প্রদান করা হয়েছে যে বস্তাটি শুধু ছাই এবং মাটি দিয়ে ভরা ছিলো। এছাড়া প্রদর্শনীসহ অন্যান্য সকল প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ না করেই কৃষকদের কাছ থেকে ফাঁকা রেজিস্টারে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে কৃষক সূত্রে জানা গেছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের জন্য কৃষি অফিসে আসা প্রতিটি প্রকল্প ও কৃষি প্রণোদনার উপকরণগুলো প্রকৃত কৃষকরা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। কৃষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ বর্তমানে উপজেলা কৃষি অফিস স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চলতি বছর উপজেলায় দুই ধাপে একশতটি পারিবারিক পুষ্টি বাগানের প্রদর্শনী প্রদান করা হয়েছে। যে সকল প্রদর্শনীর বরাদ্দকৃত বিভিন্ন উপকরণ বিতরণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বছরের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক ড. মো: আকরাম হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী স্থাপনের ভাংতি বিবরণী থেকে জানা যায় প্রদর্শনী প্রাপ্ত প্রতিজন কৃষক ১ হাজার টাকা মূল্যের বীজ/চারা (সবজি, স্বল্পকালিন ফল, ভেষজ, মসলা ও লতানো সবজি-১ম মৌসুম) থোক বরাদ্দ পাবেন। এছাড়া ৫শত টাকা মূল্যের জৈব/অবৈজ সার, ২শত টাকা মূল্যের ভার্মিকম্পোস্ট সার, ৭শত টাকা মূল্যের বেড়া/নেট, ৩শত টাকা মূল্যের সবজি বীজ সংরক্ষণের পাত্র, ৫শত টাকা মূল্যের সাইন বোর্ড, বিবিধ (উপকরণ, পরিবহণ, রেজিস্টার ইত্যাদি) যার মূল্য ২শত টাকা ও ১ হাজার টাকা মূল্যের পরবর্তী ২ মৌসুমের বীজ/চারা পাওয়ার কথা। অপরদিকে প্রকল্প সদর দপ্তর হতে সরবরাহ করা প্রত্যেক প্রদর্শনীর জন্য ১টি করে পানির ঝাঁঝরিও এখন পর্যন্ত সরবরাহ করার কথা। অথচ বছর শেষ হলেও প্রদর্শনী পাওয়া কৃষকরা হাতে গোনা কয়েকটি নিম্মমানের উপকরণ ছাড়া বরাদ্দের সকল উপকরণ এখনো পর্যন্ত পাননি বলে সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা গেছে।
পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী পাওয়া উপজেলার ভেটী গ্রামের দিলদার হোসেনের ছেলে আদর্শ কৃষক মো: আসলাম হোসেন মুঠোফোনে জানান তিনি চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একটি পুষ্টি বাগান প্রদর্শনী পেয়েছেন। তিনি প্রকল্পের বরাদ্দ হিসেবে একটি সাইন বোর্ড, ক্ষুদ্র চারটি ফলের গাছ, বেড়া হিসেবে নেট, কিছু সবজির বীজ, এক বস্তা জৈব সার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি আর কিছুই পাননি। অফিস থেকে যে সকল সবজির বীজ দুইবার তিনি পেয়েছেন সেগুলো বপনের পর গাছ না ওঠায় তিনি পুনরায় বাজার থেকে সবজির বীজ কিনে এনে বাগানে বপন করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: মোস্তাকিমা খাতুন মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান প্রতিটি প্রদর্শনীর কৃষকদের মাঝে সকল উপকরণ সঠিক ভাবে বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন বরাদ্দ ও প্রণোদনার উপকরণ সঠিক ভাবে সঠিক কৃষকদের মাঝেই বিতরণ করা হচ্ছে।