সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সহকর্মীদের কুপ্রস্তাবের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে: তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০২:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮৫ জন দেখেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

সহকর্মী দুই শিক্ষিকাকে কু প্রস্তাব, শিক্ষার্থীদের অশালীন আচরণ করায় সিরাজগঞ্জের কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালামের বিরুদ্ধে গত ২০ জুলাই তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত ভুক্তভোগি তিন শিক্ষক।

এরই প্রেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে ঘটনার তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও আরেক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিমকে সদস্য করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি গঠনের ২৯ দিন পর (১৮ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান কলামুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৫ আগস্ট তদন্ত করবেন বলে উভয় পক্ষকে (তদন্ত নোটিশ) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দেন।

আর ৭ দিন পর (২৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে তদন্ত কমিটি ওই বিদ্যালয়ে গেলে শতাধিক এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ ওই প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালামের অপসরণ দাবী করে মিছিল করেন। এরপর দুই বিশিষ্ট কমিটির সদস্য অভিযোগকারী তিন শিক্ষক, অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁদের লিখিত বিবরণ নেন।
আর তদন্ত প্রতিবেদন পরে জানাবেন সাংবাদিকদের এমনটি জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিম।

কিন্তু শিক্ষা বিভাগের গড়িমসিতে সেই তদন্ত প্রতিবেদন গত দু মাসেও আলোর মুখই দেখেনি। যা নিয়ে হতাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণসহ এলাকাবাসী।

অবশ্য, তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জানান, তদন্তে গড়িমসি হয়নি। তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে গত ৩১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

তবে তদন্ত হয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে নির্যাতন বেড়ে গেছে। এমন অভিযোগ করে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম স্যারের কাছে থেকে একজন শিক্ষকের সম্মান কখনও পাইনি। তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকির মাঝেই রাখতেন।

অপর দিকে অভিযোগকারী শিক্ষিকাদ্বয় জানান, একজন প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ফকিন্নির বাচ্চা বলে গালাগাল করেন। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করেছেন। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ তাঁর ছেলে মেয়েকে দিয়ে ব্যবহার করায়। শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে নিয়ে কাজ করিছে। বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষে তাঁর বসার চেয়ার পরিস্কার করে তাঁকে চা দিতে বলতেন। এমন কি তাঁর নিজ বাড়িতে এসি রুমে শুয়ে বসে আরাম আয়েসে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করার জন্য কু-প্রস্তাবও দিতেন। তদন্তের দিন স্থানীয় শতাধিক লোকজন ওই প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালাম কে অপসরণ দাবী করে মিছিলও করেছিলেন। যার স্বাক্ষী তদন্ত করতে আসা দুজন টিও স্যার। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলেও এ ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের গড়িমসি অবস্থা দেখে আমরা হতাশ। আমরা নারী শিক্ষক যদি তাঁর নিজের শিক্ষা পরিবারেই বিচার না পাই। তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ জানান, তদন্ত শেষে রিপোর্ট অনেক আগেই রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. সানাউল্লাহ বলেন, হ্যাঁ রিপোর্ট পেয়েছি এবং কার্যক্রম চলছে।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সহকর্মীদের কুপ্রস্তাবের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে: তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি

আপডেট টাইম : ০২:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম

সহকর্মী দুই শিক্ষিকাকে কু প্রস্তাব, শিক্ষার্থীদের অশালীন আচরণ করায় সিরাজগঞ্জের কলামুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালামের বিরুদ্ধে গত ২০ জুলাই তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন একই বিদ্যালয়ে কর্মরত ভুক্তভোগি তিন শিক্ষক।

এরই প্রেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে ঘটনার তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও আরেক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিমকে সদস্য করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি গঠনের ২৯ দিন পর (১৮ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান কলামুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ২৫ আগস্ট তদন্ত করবেন বলে উভয় পক্ষকে (তদন্ত নোটিশ) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশনা দেন।

আর ৭ দিন পর (২৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে তদন্ত কমিটি ওই বিদ্যালয়ে গেলে শতাধিক এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ ওই প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালামের অপসরণ দাবী করে মিছিল করেন। এরপর দুই বিশিষ্ট কমিটির সদস্য অভিযোগকারী তিন শিক্ষক, অভিভাবকগণ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁদের লিখিত বিবরণ নেন।
আর তদন্ত প্রতিবেদন পরে জানাবেন সাংবাদিকদের এমনটি জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিম।

কিন্তু শিক্ষা বিভাগের গড়িমসিতে সেই তদন্ত প্রতিবেদন গত দু মাসেও আলোর মুখই দেখেনি। যা নিয়ে হতাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণসহ এলাকাবাসী।

অবশ্য, তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জানান, তদন্তে গড়িমসি হয়নি। তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে গত ৩১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

তবে তদন্ত হয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে নির্যাতন বেড়ে গেছে। এমন অভিযোগ করে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম স্যারের কাছে থেকে একজন শিক্ষকের সম্মান কখনও পাইনি। তিনি আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকির মাঝেই রাখতেন।

অপর দিকে অভিযোগকারী শিক্ষিকাদ্বয় জানান, একজন প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ফকিন্নির বাচ্চা বলে গালাগাল করেন। পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করেছেন। বিদ্যালয়ের দুটি ল্যাপটপ তাঁর ছেলে মেয়েকে দিয়ে ব্যবহার করায়। শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে নিয়ে কাজ করিছে। বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষে তাঁর বসার চেয়ার পরিস্কার করে তাঁকে চা দিতে বলতেন। এমন কি তাঁর নিজ বাড়িতে এসি রুমে শুয়ে বসে আরাম আয়েসে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ করার জন্য কু-প্রস্তাবও দিতেন। তদন্তের দিন স্থানীয় শতাধিক লোকজন ওই প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল সালাম কে অপসরণ দাবী করে মিছিলও করেছিলেন। যার স্বাক্ষী তদন্ত করতে আসা দুজন টিও স্যার। এছাড়াও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলেও এ ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের গড়িমসি অবস্থা দেখে আমরা হতাশ। আমরা নারী শিক্ষক যদি তাঁর নিজের শিক্ষা পরিবারেই বিচার না পাই। তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ জানান, তদন্ত শেষে রিপোর্ট অনেক আগেই রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. সানাউল্লাহ বলেন, হ্যাঁ রিপোর্ট পেয়েছি এবং কার্যক্রম চলছে।