সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যায় দেড় লাখ নেন মা  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গোষ্ঠী (বাহাম) ভিত্তিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাদকাসক্ত যুবক সিরাজুল ইসলাম মন্ডলকে (২৫)। হত্যার উদ্দেশ্যে মায়ের কাছ থেকে ভিকটিম সিরাজুলকে দেড় লাখ টাকায় কিনে নেওয়া হয়।

 

নিহত সিরাজুল উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত শাহাদৎ হোসেন মন্ডলের ছেলে।

 

মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের ৮ দিনেই রহস্য উদঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ডিবির এসআই শারফুল ইসলাম।

 

আরও পড়ুন: রাস্তায় পড়েছিল প্রবাসী যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মৃত আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আল আমীন মন্ডল (৩৮), একই গ্রামের সানোয়ার মন্ডলের ছেলে মো. সেলিম মন্ডল (৩২),  মো. শহিদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আমিরুল ইসলাম (৩৩), মৃত ইয়াছিন প্রামানিকের ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮),  ও  মৃত আজগর প্রামানিকের ছেলে মো. আব্দুল গফুর প্রামানিক (৫৫)।

 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে এসআই শারফুল জানান, গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সিরাজুলকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মো. ওমর আলীসহ কয়েক যুবক। রাতে সিরাজুল বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন ওমর আলীসহ অন্যান্যদের বাড়িতে খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদেরকেও বাড়িতে পাওয়া যায় না।

 

পরদিন ২৯ অক্টোবর ভোরে পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের রাস্তার উপর সিরাজুলের ক্ষবিক্ষত রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের চুন্নু মেম্বার ও খোকন মাস্টার গোষ্ঠীর লোকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ সুপার একটি চৌকস তদন্তটিম গঠন করেন। তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সহিত জড়িতদের সনাক্ত এবং গত ৩ নভম্বের গভীর রাতে শাহজাদপুর থানা এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শাহজাদপুর চৌকি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এসআই শারফুল আরও বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় আসামিরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

 

আসামিদের জবানবন্দী থেকে জানা যায়, পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামানিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার ও চুন্নু মেম্বার গোষ্ঠীর পূর্ব থেকে শত্রুতা ছিল। ২০২১ সালে দুই গোষ্ঠীর মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্য হয়। এ ঘটনায় মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামানিক গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।

 

পরবর্তীতে ওই হত্যা মামলায় বাদীর সঙ্গে আসামিরা ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আপোষ মিমাংসা করে নেয়। আপসের ৫ লাখ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টারের হাতে জমা দেয়। বাকি টাকা যাতে না দিতে হয় এবং বাদীপক্ষের লোকজনে ফাঁসানোর জন্য মাদকাসক্ত সিরাজুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ভিকটিম সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার পরিবারও অতিষ্ঠ ছিল। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিদের একজন ভিকটিম সিরাজুলের মায়ের কাছে গিয়ে মেরে ফেলার কথা জানায়। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ লাখ টাকাও লেনদেন হয়। যার মধ্যে দেড় লাখ টাকা ভিকটিমের মাকে দিয়ে তাকে কিনে নেয়।

 

জবানবন্দীতে আসামিরা আরও জানায়,  ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিরাজুলকে নিয়ে এক বাড়িতে আটকে রাখে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাকে ঘটনাস্থলে এনে প্রথমে গামছা দিয়ে গলা চেপে ধরে। এরপর ছোরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

83
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যায় দেড় লাখ নেন মা  

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গোষ্ঠী (বাহাম) ভিত্তিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাদকাসক্ত যুবক সিরাজুল ইসলাম মন্ডলকে (২৫)। হত্যার উদ্দেশ্যে মায়ের কাছ থেকে ভিকটিম সিরাজুলকে দেড় লাখ টাকায় কিনে নেওয়া হয়।

 

নিহত সিরাজুল উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত শাহাদৎ হোসেন মন্ডলের ছেলে।

 

মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের ৮ দিনেই রহস্য উদঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ডিবির এসআই শারফুল ইসলাম।

 

আরও পড়ুন: রাস্তায় পড়েছিল প্রবাসী যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মৃত আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আল আমীন মন্ডল (৩৮), একই গ্রামের সানোয়ার মন্ডলের ছেলে মো. সেলিম মন্ডল (৩২),  মো. শহিদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আমিরুল ইসলাম (৩৩), মৃত ইয়াছিন প্রামানিকের ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮),  ও  মৃত আজগর প্রামানিকের ছেলে মো. আব্দুল গফুর প্রামানিক (৫৫)।

 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে এসআই শারফুল জানান, গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সিরাজুলকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মো. ওমর আলীসহ কয়েক যুবক। রাতে সিরাজুল বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন ওমর আলীসহ অন্যান্যদের বাড়িতে খোঁজ নেয়। কিন্তু তাদেরকেও বাড়িতে পাওয়া যায় না।

 

পরদিন ২৯ অক্টোবর ভোরে পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের রাস্তার উপর সিরাজুলের ক্ষবিক্ষত রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের চুন্নু মেম্বার ও খোকন মাস্টার গোষ্ঠীর লোকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ সুপার একটি চৌকস তদন্তটিম গঠন করেন। তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সহিত জড়িতদের সনাক্ত এবং গত ৩ নভম্বের গভীর রাতে শাহজাদপুর থানা এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শাহজাদপুর চৌকি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এসআই শারফুল আরও বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় আসামিরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

 

আসামিদের জবানবন্দী থেকে জানা যায়, পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামানিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার ও চুন্নু মেম্বার গোষ্ঠীর পূর্ব থেকে শত্রুতা ছিল। ২০২১ সালে দুই গোষ্ঠীর মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্য হয়। এ ঘটনায় মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামানিক গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।

 

পরবর্তীতে ওই হত্যা মামলায় বাদীর সঙ্গে আসামিরা ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আপোষ মিমাংসা করে নেয়। আপসের ৫ লাখ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টারের হাতে জমা দেয়। বাকি টাকা যাতে না দিতে হয় এবং বাদীপক্ষের লোকজনে ফাঁসানোর জন্য মাদকাসক্ত সিরাজুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ভিকটিম সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার পরিবারও অতিষ্ঠ ছিল। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিদের একজন ভিকটিম সিরাজুলের মায়ের কাছে গিয়ে মেরে ফেলার কথা জানায়। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ লাখ টাকাও লেনদেন হয়। যার মধ্যে দেড় লাখ টাকা ভিকটিমের মাকে দিয়ে তাকে কিনে নেয়।

 

জবানবন্দীতে আসামিরা আরও জানায়,  ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিরাজুলকে নিয়ে এক বাড়িতে আটকে রাখে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাকে ঘটনাস্থলে এনে প্রথমে গামছা দিয়ে গলা চেপে ধরে। এরপর ছোরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।