সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আখ চাষে ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা, তিন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কৃষক দম্পতি

একসময় আখ চাষের জন্য নরসিংদীর বেলাব উপজেলা ছিল অন্যতম পরিচিত এলাকা। তবে বিভিন্ন সেচ প্রকল্প চালু হওয়ায় ধান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন কৃষকরা। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে ধান চাষ থেকে আবারও আখ চাষে ফিরছেন অনেক কৃষক। তাদের দাবি, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করে ধানের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি লাভ করা সম্ভব।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে আখের আবাদ রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো—বাজনাব, পাটুলী, আমলাব, চর উজিলাব ও নারায়ণপুর।

 

 

 

 

উপজেলায় চাষ করা আখের উল্লেখযোগ্য জাতের মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী-২৮ ও টেনাই (বোম্বাই)। এর মধ্যে টেনাই জাতের আখ মূলত সরাসরি খাবার হিসেবে বাজারজাত করা হয়। আর ঈশ্বরদী-২৮ জাতের আখ থেকে গুড় ও চিনি উৎপাদন করা হয়।

 

 

 

 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি আখের জমি পরিপক্ব হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ সময় জমি ধরে রাখতে হলেও ধানের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। পাশাপাশি আখের জমিতে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেও বাড়তি আয় করা যায়।

 

 

 

 

একসময় আখ মাড়াইয়ের কাজে গরু-মহিষ ব্যবহার করা হলেও সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সেলো ইঞ্জিনচালিত মেশিনের মাধ্যমে আখ মাড়াই করা হচ্ছে। এতে শ্রম ও সময় দুটোই কম লাগছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দপাড়ার আখচাষি আসাদ মিয়া জানান, চলতি বছর তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। আখ বিক্রি করে তিনি ভালো লাভ পেয়েছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি জমিতে এসে আখ কিনে নিয়ে যাওয়ায় বাজারজাত নিয়েও তাকে তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।

 

 

 

 

আখ চাষি আল-আমিন বলেন, আখ চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি এবং ফসল ঘরে তুলতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ থেকে ভালো লাভ পাওয়া যায়।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির বৈশিষ্ট্য এ এলাকায় রয়েছে। ফলে এখানকার কৃষকরা সহজেই আখের আবাদ করতে পারেন।

 

 

 

 

আখ চাষিদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ বলেন, সরকারি পর্যায়ে আখ চাষিদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আখ চাষ শুধু তাদের আয় বাড়াচ্ছে না, বরং অনেক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে। এরই বাস্তব উদাহরণ বাজনাব গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো। দীর্ঘদিন আখ চাষ করে অনেক কৃষক সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমনকি এক কৃষক ও তার গৃহিণী আখ চাষের আয়ে তাদের তিন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা গেছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

আখ চাষে ঘুরেছে ভাগ্যের চাকা, তিন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কৃষক দম্পতি

আপডেট টাইম : ১২:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় আখ চাষের জন্য নরসিংদীর বেলাব উপজেলা ছিল অন্যতম পরিচিত এলাকা। তবে বিভিন্ন সেচ প্রকল্প চালু হওয়ায় ধান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন কৃষকরা। কিন্তু আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে ধান চাষ থেকে আবারও আখ চাষে ফিরছেন অনেক কৃষক। তাদের দাবি, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করে ধানের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি লাভ করা সম্ভব।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৩৪ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে আখের আবাদ রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো—বাজনাব, পাটুলী, আমলাব, চর উজিলাব ও নারায়ণপুর।

 

 

 

 

উপজেলায় চাষ করা আখের উল্লেখযোগ্য জাতের মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী-২৮ ও টেনাই (বোম্বাই)। এর মধ্যে টেনাই জাতের আখ মূলত সরাসরি খাবার হিসেবে বাজারজাত করা হয়। আর ঈশ্বরদী-২৮ জাতের আখ থেকে গুড় ও চিনি উৎপাদন করা হয়।

 

 

 

 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি আখের জমি পরিপক্ব হতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। ফলে দীর্ঘ সময় জমি ধরে রাখতে হলেও ধানের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। পাশাপাশি আখের জমিতে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেও বাড়তি আয় করা যায়।

 

 

 

 

একসময় আখ মাড়াইয়ের কাজে গরু-মহিষ ব্যবহার করা হলেও সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সেলো ইঞ্জিনচালিত মেশিনের মাধ্যমে আখ মাড়াই করা হচ্ছে। এতে শ্রম ও সময় দুটোই কম লাগছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামের সৈয়দপাড়ার আখচাষি আসাদ মিয়া জানান, চলতি বছর তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। আখ বিক্রি করে তিনি ভালো লাভ পেয়েছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি জমিতে এসে আখ কিনে নিয়ে যাওয়ায় বাজারজাত নিয়েও তাকে তেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি।

 

 

 

 

আখ চাষি আল-আমিন বলেন, আখ চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি এবং ফসল ঘরে তুলতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ থেকে ভালো লাভ পাওয়া যায়।

 

 

 

 

বেলাব উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির বৈশিষ্ট্য এ এলাকায় রয়েছে। ফলে এখানকার কৃষকরা সহজেই আখের আবাদ করতে পারেন।

 

 

 

 

আখ চাষিদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উর রউফ বলেন, সরকারি পর্যায়ে আখ চাষিদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয় কৃষকদের মতে, আখ চাষ শুধু তাদের আয় বাড়াচ্ছে না, বরং অনেক পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে। এরই বাস্তব উদাহরণ বাজনাব গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো। দীর্ঘদিন আখ চাষ করে অনেক কৃষক সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমনকি এক কৃষক ও তার গৃহিণী আখ চাষের আয়ে তাদের তিন সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা গেছে।