সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ইজারাদারের কর্মচারীকে মারধর করলেন ইউএনও

ইজারাদারের কর্মচারীকে চড়-থাপ্পড় দিচ্ছেন ইউএনও। সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি

ময়মনসিংহে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

প্রায় এক মিনিটের ওই ফুটেজে ইউএনও এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটের দিকে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

ইজারাদারপক্ষের দাবি, অভিযানের সময় ইজারাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।

 

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে ইউএনও তাকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।

 

 

 

এরপর র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

 

 

 

 

ইজারাদারপক্ষের দাবি, সারোয়ারকে পরে র‍্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজন ও ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

 

 

 

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বালুমহালটি ইজারা নিয়েছি। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তাকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

ঘটনার বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

ইজারাদারের কর্মচারীকে মারধর করলেন ইউএনও

আপডেট টাইম : ০৯:১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

প্রায় এক মিনিটের ওই ফুটেজে ইউএনও এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় দেওয়ার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা গেছে। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটের দিকে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

ইজারাদারপক্ষের দাবি, অভিযানের সময় ইজারাদারের কর্মী সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা কর্মকর্তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।

 

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইউএনওর নেতৃত্বে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। সেখানে ইউএনও কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে ইউএনও তাকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন।

 

 

 

এরপর র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ইউএনও ওই সদস্যের কাছ থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ারকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

 

 

 

 

ইজারাদারপক্ষের দাবি, সারোয়ারকে পরে র‍্যাবের গাড়িতে করে ত্রিশালের ধলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে স্বজন ও ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

 

 

 

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে বালুমহালটি ইজারা নিয়েছি। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আমাদের কর্মী অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এরপরই তাকে মারধর করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

 

 

 

ঘটনার বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’