সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

এনসিপিকে ‘জামায়াতের শিশু সংগঠন’ বললেন রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে মিশে গেছে। এ কারণে তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নেই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন।

 

 

 

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

রাশেদ খান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিটবাজি শুরু করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যে মুখোশধারী ছিলেন, তা অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখেছি। তিনি সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন।’

 

 

এনসিপির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ‘এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী এবং জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথা বলার পর তারাই আবার জামায়াতের পকেটবন্দি হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সব খরচ জামায়াত দিয়েছে।’

 

 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক দফার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম—আমরা সেটা স্বীকার করি। কিন্তু এই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল এ দেশের জনগণ।’

 

 

 

 

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘বিরোধী দলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের এমপিদের সমান সুযোগ-সুবিধা চাচ্ছেন। তারা তো সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। অসুবিধা তো নেই। তারপরও তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিরোধী দল কোনো সুযোগ-সুবিধা পেত না। সেই হিসেবে বিএনপি সরকার বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং মূল্যায়ন করছে। তারপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থা এমন—সুখে থাকতে যেন ভূতে কিলাচ্ছে।’

 

 

 

 

এর আগে সকালে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে রাশেদ খানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা সুলাইমান হোসেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

এনসিপিকে ‘জামায়াতের শিশু সংগঠন’ বললেন রাশেদ খান

আপডেট টাইম : ০৫:১৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের সঙ্গে মিশে গেছে। এ কারণে তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নেই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন।

 

 

 

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

রাশেদ খান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিটবাজি শুরু করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদের গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান যে মুখোশধারী ছিলেন, তা অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখেছি। তিনি সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন।’

 

 

এনসিপির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ‘এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী এবং জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথা বলার পর তারাই আবার জামায়াতের পকেটবন্দি হয়েছে। এনসিপির যেসব প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সব খরচ জামায়াত দিয়েছে।’

 

 

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক দফার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম—আমরা সেটা স্বীকার করি। কিন্তু এই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল এ দেশের জনগণ।’

 

 

 

 

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘বিরোধী দলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের এমপিদের সমান সুযোগ-সুবিধা চাচ্ছেন। তারা তো সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। অসুবিধা তো নেই। তারপরও তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিরোধী দল কোনো সুযোগ-সুবিধা পেত না। সেই হিসেবে বিএনপি সরকার বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং মূল্যায়ন করছে। তারপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থা এমন—সুখে থাকতে যেন ভূতে কিলাচ্ছে।’

 

 

 

 

এর আগে সকালে ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে রাশেদ খানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা সুলাইমান হোসেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।