শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর মহিলা কলেজের জায়গা নিজের দাবী করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, কলেজের পশ্চিম পাশের ৪ শতাংশ জায়গাটিতে কিছুটা খাল থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এটিকে ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবেই ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী এই জায়গাটি নিজের দাবি করে মাটি ফেলে টিনের ঘর তুলে মার্কেট নির্মাণ করেছেন।
হাজী আইয়ুব আলী স্থানীয় বিএনপি এবং মটর মালিক সমিতির প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় জায়গা দখলের সময় সরাসরি বাঁধা দিতে না পারলেও আইনের মাধ্যমেই জায়গা দখলমুক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পৌর সদরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শাহজাদপুর মহিলা কলেজের জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব মার্কেট নির্মাণ করছেন শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী । ইতোমধ্যেই জায়গাটিতে নতুন করে মাটি ফেলে খুঁটি পুঁতে অবকাঠামো তৈরি করে দখলে নিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিন জানান, ১৯৯৭ সালে শাহজাদপুর মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পর দ্বারিয়াপুর মৌজার আরএস ৬৫৫৬, ১৮৪৫ ও ১৮৩২ দাগের উপর মূল ক্যাম্পাস নির্মাণ হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ২৩ মার্চ মোঃ মতিয়ার রহমান নামের একজন ব্যাক্তি ৬৫৫৫ দাগ থেকে কলেজকে আরও ৪শতাংশ জায়গা দান করে দেন। কলেজের পক্ষে সর্বশেষ ২০২৩ সালে সরকারি সব কর পরিশোধ করে খারিজ করে নেয়। তবে তৎকালীন সময়ে জায়গাটি খাল হওয়ায় কলেজ ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবেই ব্যাবহার করে আসছির। সম্প্রতি জায়গাটিতে মাটি ফেলে হঠাৎই নিজের সম্পত্তি দাবি করে অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী।
স্থানীয় বিএনপি এবং মটর মালিক সমিতির প্রভাবশালী এই নেতা বাধাহীনভাবে জায়গা দখল করলেও আইনের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা হবে বলেও জানান অধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিন।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে কলেজের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ কলেজের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাঁর বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী বলেন, কলেজ নিজেই আছে হাওয়ার উপর। কলেজের নিজস্ব কোন জায়গা নেই। কলেজ যে ৪শতাংশ জায়গা নিজের দাবি করছে সেটা কখনোই কলেজের ছিল না। বরং জায়গার মূল মালিক তার কাছে জায়গাটি বিক্রি করেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার পর তার পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত।

রিপোর্টার: 




















