দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে ৩৯তম জন্মদিনের একদিন আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন আফগানিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর।
১৯৮৭ সালের ৮ জুলাই আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শাপুর। আগামীকাল বুধবার (৮ জুলাই) ছিল তার ৩৯তম জন্মদিন। কিন্তু জন্মদিনের ঠিক আগের দিন আফগান ক্রিকেটের এই পরিচিত মুখের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শোক জানিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। এক বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, ‘গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে আমরা আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।’
বিরল রোগে আক্রান্ত ছিলেন শাপুর
চিকিৎসকদের মতে, শাপুর হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামের একটি বিরল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি জটিল সমস্যা, যেখানে শরীরের অতিরিক্ত সক্রিয় শ্বেত রক্তকণিকা নিজের সুস্থ কোষ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে দুর্বল করে তোলে। ফলে শরীরে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জানা গেছে, অসুস্থতার সময় তার শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। সংক্রমণ তার মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে যায়। এমনকি কথা বলার সক্ষমতাও অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন এ ক্রিকেটার।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের সময়কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার ছিলেন শাপুর জাদরান। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৪৩টি ওয়ানডে ও ৩৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই বাঁহাতি পেসার নিজের গতি, আগ্রাসী বোলিং এবং উইকেট পাওয়ার পর বিশেষ উদযাপনের জন্য সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। একসময় তার গতি ও সুইংয়ে বিপাকে পড়তেন বিশ্বের অনেক ব্যাটার।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অভিষেক দলে ছিলেন শাপুর। সেই আসরে ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। ২০১৭ সালে আফগানিস্তান টেস্ট মর্যাদা পেলেও জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তার।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এসিবির মতে, আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার পথচলায় শাপুরের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও অবদান সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বোর্ড আরও জানায়, মাঠের বাইরেও শাপুর ছিলেন তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণার উৎস। তার লড়াই, দৃঢ়তা ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাবে।
আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর সময়ের এই সংগ্রামী ক্রিকেটারের মৃত্যুতে দেশটির ক্রিকেট হারাল এক গুরুত্বপূর্ণ মুখকে। শাপুর জাদরানের অবদান আফগান ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ক্রিড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















