নওগাঁ-৩ (বদলগাছী-মহাদেবপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্ম ব্যবসায়ী, এরা গুপ্তচর। গুপ্ত রাজনীতি তারা বেশি করে। এরা আওয়ামীলীগের মধ্যে ছিল-সেটা আপনারা দেখেছেন। এরা গুপ্তচর। এরা চাকরি করেছে আওয়ামীলীগের সময়। আর এখন এসে খোলস পাল্টিয়েছে।
সোমবার (৯ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টায় বদলগাছী পাইলট হাইস্কুল মাঠে নির্বচনী জনসভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী মুনাফেকের দল, মিথ্যুকের দল এবং দেশদ্রোহীর দল। এরা দিনের বেলায় ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে, রাতের বেলায় মিটিং করে। সেটা আবার গোপন মিটিং। এক বছর পর প্রকাশ হয়।
তিনি আরও বলেন, এদের চৌর্য্যবিত্তি, এরা মিথ্যাবাদী। এরা গোপনে আমেরিকার সাথে চুক্তিবদ্ধ। এরা আমেরিকার সাথে মিটিং করলেও মানুষকে জানাই না। সাংবাদিকরা প্রকাশ করলে আমরা জানতে পারি। এরা আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে চুক্তিবদ্ধ। বাংলাদেশকে এরা আফগানিস্থান বানাবে। এরা কি রকম ইসলামী দল? আজ ফিলিস্তিনিতে আমার মা-বোনদের ও আমার ভাইদের-চাচাদের পাখির মতো নিধন করা হচ্ছে। অথচ জামায়াতে ইসলামী এগুলোর প্রতিবাদ করেনা। কারণ ভাসুর আমেরিকা মন খারাপ করবে। আর আমেরিকা মন খারাপ করলে এদের রাজনীতি থাকবেনা। শাপলা চত্তরে আলেমদের মারা হয়েছে, সবার আগে দাঁড়িয়েছিল মরহুমা খালেদা জিয়া। কোনোদিনও জামায়াতে ইসলামী বলেনা হাফেজদের মারা হয়েছে এর বিচার চাই। কারণ ভাসুর মাইন্ড করবে। এসব ভাসুরের সাথে পরকিয়া করার দল বিএনপি নয়।
ফজলে হুদা বাবুল বলেন, আজ কোনো বক্তব্য দিতে আসিনি, আপনারা সব জানেন, বিএনপি আপনাদের জন্য কি পরিকল্পনা দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কি করবে এটা প্রকাশ্য,, বিএনপির রাজনীতি কোনোদিন গোপন রাজনীতি নয়। আমি এলাকার সন্তান হয়ে আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা আগামী ১২তারিখ যদি আমাকে ভোট দেন, তাহলে আপনাদের সন্মান রক্ষার জন্য আমার জীবনের শেষ টুকু দিবো। আপনারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আপনারা যথাযথ মর্যাদা পাবেন। কারণ এই এই মনোনয়ন আপনাদের, আপনাদের কারণেই আমি মনোনয়ন পেয়েছি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা বিগত দিনে দলের জন্য যে ত্যাগ, তিতিক্ষা, জেল জুলুম ও নির্য়াতনের স্বীকার হয়েছেন তারা প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। তবে কেউ যদি শহীদ জিয়াাউর রহমানের আদর্শ থেকে বের হয়ে কোনো কর্মকান্ড করে, আমি কিন্তু তাকে ক্ষমা করবো না। কারণ এটাই হচ্ছে শহীদ জিয়ার রাজনীতি।
মহাদেবপুর-বদলগাছীতে আগামীতে দলবাজী হবেনা, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি প্রভাবমুক্ত থাকবে, টেন্ডারবাজী হবেনা, মাটিবাজী হবেনা, বরাদ্দের বিনিময়ে কারো কাছ থেকে কেউ কিছু চাইবে না উল্লেখ করে ফজলে হুদা বলেন, আমি এই আসনের সকল রাজনৈতিক দল ও সকল মতের লোকদের শ্রদ্ধা করি ও সন্মান জানাই। আমাকে যদি এমপি হিসেবে তৌফিক দান করে তাহলে আমি প্রত্যেকের এমপি হিসেবে কাজ করবো। কাউকে বাঁকা চোখে দেখবো না। কোনো রাজনীতির প্রতিহিংসা নেওয়া হবেনা. রাজনীতির কারণে কাউকে হেনস্থা করা হবেনা। আর এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ। আপনার মত ও কথা আপনি বলবেন, আমার কথা আমি বলবো।
তিনি বলেন, আমার এই আসনে কোনো মাদক থাকবে না, দুর্নীতি থাকবেনা। কৃষকেরা হবে এই এলাকার সবচেয়ে দামি মানুষ, সবচেয়ে সন্মানিত জায়গায় থাকবে তারা। এছাড়া শ্রমিকেরা, ভ্যান চালকেরা ও বাসের ড্রাইভার-হেলপাররা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে যেপেশাতেই থাকুক না কেন, প্রত্যেকের পেশাকেই সন্মানজনক গড়ে তুলবো। একটা কৃষককে নায্য মূল্য দেওয়ার জন্য তারেক রহমান যা করা লাগে সেটাই করবে। কারণ তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, একজন কৃষকের পেশা যতোদিন লাভজনক হবেনা, ততোদিন কৃষকের পাশে থাকবে বিএনপি। যেদিন একজন কৃষকের সন্তান পড়াশোনা করে বিসিএস দিবেনা, বলবে কৃষক পেশাই আমার জন্য লাভজনক সেদিনই আমাদের সেদিনই তারেক জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে, রাজনীতি সফল হবে।
বদলগাছী উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ত্রয়োদশ নির্বাচনের শেষ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী চৌধুরী টিপু।
উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু রায়হান গিটারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি, যুবদলসহ প্রমূখ।
এর আগে এদিন দুপুর আড়াই টায় দুই উপজেলাবাসীর জন্য তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

নওগাঁ ব্যুরো। জনতার কণ্ঠ.কম 



















