জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩) নামে সিরাজগঞ্জের এক খাদ্য কর্মকর্তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে দুই মামলায় মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগীতার দায়ে তার বাবা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামানিক ২ বছর ও স্ত্রী মোছা. ডলি বেগমকে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং উভয়কে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এ দন্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার সমায় আসামিরা পলাতক ছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক মো. শহীদুল আলম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চর দমদমা গ্রামের সহিদুল ইসলাম প্রামানিকের ছেলে। কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারি উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারি উপ-পরিদর্শক পদে দায়িত্বে ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন, মনিরুলের পিতা সহিদুল ইসলাম প্রামানিক ও স্ত্রী মোছা. ডলি বেগম।
দুদক সূত্র জানায় ২০২০ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর সর্বমোট ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রদান করেন মনিরুল ইসলাম। সম্পদ বিবরণী যাচাই করে তার নামে বিল্ডিংয়ের নির্মাণ ব্যয় ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ টাকাসহ স্থাবর-অস্থাবর সর্বমোট ৮২ লাখ ৩১ হাজার ৮৫০ সম্পদের তথ্য পায় দুদক । দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে দুদকে মিথ্যা তথ্য দেন তিনি।
এসব বিষয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম সরকার বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম সরকার বলেন, মনিরুল দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ভবন নির্মাণকাল ২০১১-২০১৫ সাল উল্লেখ করলেও তদন্ত ও পর্যালোচনা করে দেখা যায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভবন নির্মাণ শুরু করে ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে শেষ হয়। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মনিরুলে ব্যাংক একাউন্টে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা এবং ২০১৭ সাল থেক ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এতে প্রমাণ হয় ওই টাকা ভবন নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে। খাদ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ব্যাংক হিসাবে জমা করা ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার উৎসের বিষয়ে দুদককে সন্তোষজনক ব্যাখা দিতে পারেন নাই।
মামলার তদন্ত শেষে খাদ্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, তার বাবা সহিদুল ইসলাম ও স্ত্রী মোছা. ডলি বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়।
শুনানী শেষে বিচারক বিশেষ মামলা ৭/২৩ এরর রায়ে মনিরুল ইসলামকে ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও এবং ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তার বাবা সহিদুল ইসলাম প্রামানিককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড দেন। বিশেষ মামলা ১৩/২৩ এর রায়ে মনিরুল ইসলামকে ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং তার স্ত্রী ডলি বেগমকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















