শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের জন্য আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সৈয়দবস্তা এলাকায় ‘রাজ আইসক্রিম’ ও ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামে দুটি কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আইসক্রিম ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও সখিপুরের চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
রোববার সরেজমিনে সৈয়দবস্তা এলাকায় গিয়ে ‘রাজ আইসক্রিম’ ও ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামে দুটি কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। কারখানাগুলোতে আইসক্রিম উৎপাদন, কাঁচামাল সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আইসক্রিম মূলত প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের দোকানে বিক্রি করা হয়। নিম্নমানের এসব আইসক্রিম খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কয়েকজন অভিভাবক দাবি করেছেন।
সরেজমিনে ‘রাজ আইসক্রিম’ কারখানায় ‘রাজ ক্ষীর মালাই’, ‘স্পেশাল অরেঞ্জ ললি’, ‘স্পেশাল ম্যাঙ্গো আইস বার’সহ বিভিন্ন নামে আইসক্রিম উৎপাদন করতে দেখা যায়। তবে ‘অরেঞ্জ ললি’তে কমলা কিংবা ‘ম্যাঙ্গো আইস বারে’ আমের ব্যবহার দেখা যায়নি। আইসক্রিম তৈরিতে ঘনচিনি, বিভিন্ন ধরনের রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কারখানায় থাকা ইসমাইল মোড়ল জানান, তার ছেলে মাসুম মোড়ল এই ব্যবসা পরিচালনা করেন। আইসক্রিম তৈরির সময় ঘনচিনি ও ‘আইপি’ নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করতে তিনি দেখেছেন বলে জানান। তবে এসব উপাদান সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই।
আইসক্রিমের মোড়কে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ওজন লেখার জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকলেও সেখানে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়নি বলে সরেজমিনে দেখা যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুম মোড়লের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
একই এলাকায় ‘রুচি সুপার আইসক্রিম’ নামে আরেকটি কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ‘রুচি সুপার ক্ষীর মালাই’, ‘অরেঞ্জ ললি’সহ বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম উৎপাদন করা হয়। কারখানায় থাকা এক শ্রমিক জানান, এর মালিক হাবিব শিকদার।
পরে মোবাইল ফোনে হাবিব শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তিনি আইসক্রিম উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। তবে তার কারখানায় কোনো কেমিস্ট নেই এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদনও নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন দোকানে এসব আইসক্রিম সহজেই পাওয়া যায়। শিশুরা কম দামে এসব আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে। মান নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এগুলো শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, শিশু খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মকানুন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। কেউ নিয়ম ও আইন উপেক্ষা করে শিশু খাদ্য উৎপাদন করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















