সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যায় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ১২

পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১২ জনের মধ্যে দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আসামি মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

 

 

 

গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন- জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আবদুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮) ও হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা ও চুরির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মানিক নামের এক যুবক ভিডিওটি ফেসবুকে দিলে ক্ষুব্ধ হন জাহিদ। তিনি স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে নতুন হাট এলাকায় আসামিরা জাহিদকে ঘিরে ধরে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তিনি আরও বলেন, পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ তার সঙ্গী মো. ওয়াহিদকে (২৫) নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পুরানগড় ইউনিয়নের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় আসামিরা গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করে। সশস্ত্র দলটি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই জাহিদ গুরুতর আহত হয়ে মারা যান এবং ওয়াহিদ আহত হন।

 

 

এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

 

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। জেলা ডিবির একাধিক টিম গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে পাহাড়তলী থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আজাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এসময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যায় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ১২

আপডেট টাইম : ০২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আসামি মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করার পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

 

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

 

 

 

গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন- জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আবদুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮) ও হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা ও চুরির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মানিক নামের এক যুবক ভিডিওটি ফেসবুকে দিলে ক্ষুব্ধ হন জাহিদ। তিনি স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে নতুন হাট এলাকায় আসামিরা জাহিদকে ঘিরে ধরে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তিনি আরও বলেন, পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ তার সঙ্গী মো. ওয়াহিদকে (২৫) নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পুরানগড় ইউনিয়নের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় আসামিরা গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করে। সশস্ত্র দলটি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই জাহিদ গুরুতর আহত হয়ে মারা যান এবং ওয়াহিদ আহত হন।

 

 

এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

 

 

 

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। জেলা ডিবির একাধিক টিম গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রথমে পাহাড়তলী থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আজাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

এসময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।