সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বারো মাসি থাই পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী উল্লাপাড়ার আয়নুল

বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড উল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আয়নুল। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিশ্রম করে পেয়ারা বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি। সুস্বাদু এবং অল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় অনেকের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে পেয়ার বাগান করতে।

 

 

আয়নুল পেশায় একজন সফল নার্সারী ব্যবসায়ী। ৩৫ বছর যাবৎ নার্সারীর ব্যবসা করেন।

 

 

 

জানা গেছে,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর যৌথ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচী-উন্নয়ন(কৃষি)-স্পেশালপ্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট(এগ্রিকালচার)এর আওতায় প্রোগ্রামস ফর পিপলস ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)উল্লাপাড়া শাখার আওতায় আয়নুল কে ফলবাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট(কৃষি)এর মাধ্যমে তাকে উন্নত ও আধুনিক জাতের ৮২ শতাংশ জমির জন্য বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ৫৫০টি চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশক ও হলুদফাদসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে দু’দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।

 

 

 

আয়নুল জানান, প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রথম বছরেই ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এই বাগানের গাছগুলো কমপক্ষে ১০ বছর ফলন দিবে। এতে তার খরচ বাদে ১০ বছরে এ বাগান থেকে অনেক টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। বারো মাসি হওয়ায় সারা বছরই পেয়ারা বিক্রি করা যাবে।

 

 

 

তিনি আরো বলেন, শীতকালে এর ফলন আরো ভালো হয়। একটি গাছে প্রায় ২০-২৫টি ফল ধরে। এই পেয়ারা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি এবং ফলের বিচি অনেক কম। তিনটি পেয়ারা প্রায় ১ কেজি হয় এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। প্রত্যেকটি পেয়ারা পলি ব্যাগ দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ফলে পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম হয়। বাজারে এ পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা বাগানে পেয়ারা ক্রয় করার জন্য আসছে এবং যোগাযোগ রাখছেন।

 

 

 

পিপিডি’র কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ জানান, উল্লাপাড়া উপজেলায় ফলবাগান নেই বললেই চলে, তবে পিপিডি সংস্থা ফল বাগান স্থাপনে বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমানে এ উপজেলায় দুইটি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার বাগান রয়েছে। থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার চারা রোপণের আট মাসের মধ্যে ফলন দেয় এবং ফলন তুলনামূলক অনেক বেশি পাওয়া যায়। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। তরুন উদ্যোক্তাদের বাগান করার জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর আওতায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণসহ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এ ফলবাগান সফল করতে উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

 

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

বারো মাসি থাই পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী উল্লাপাড়ার আয়নুল

আপডেট টাইম : ০৯:০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড উল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আয়নুল। নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিশ্রম করে পেয়ারা বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি। সুস্বাদু এবং অল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় অনেকের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে পেয়ার বাগান করতে।

 

 

আয়নুল পেশায় একজন সফল নার্সারী ব্যবসায়ী। ৩৫ বছর যাবৎ নার্সারীর ব্যবসা করেন।

 

 

 

জানা গেছে,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর যৌথ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচী-উন্নয়ন(কৃষি)-স্পেশালপ্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট(এগ্রিকালচার)এর আওতায় প্রোগ্রামস ফর পিপলস ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি)উল্লাপাড়া শাখার আওতায় আয়নুল কে ফলবাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট(কৃষি)এর মাধ্যমে তাকে উন্নত ও আধুনিক জাতের ৮২ শতাংশ জমির জন্য বারো মাসি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারা জাতের ৫৫০টি চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশক ও হলুদফাদসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে দু’দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়।

 

 

 

আয়নুল জানান, প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রথম বছরেই ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। এই বাগানের গাছগুলো কমপক্ষে ১০ বছর ফলন দিবে। এতে তার খরচ বাদে ১০ বছরে এ বাগান থেকে অনেক টাকা আয় হবে বলে তিনি আশাবাদী। বারো মাসি হওয়ায় সারা বছরই পেয়ারা বিক্রি করা যাবে।

 

 

 

তিনি আরো বলেন, শীতকালে এর ফলন আরো ভালো হয়। একটি গাছে প্রায় ২০-২৫টি ফল ধরে। এই পেয়ারা খেতে অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি এবং ফলের বিচি অনেক কম। তিনটি পেয়ারা প্রায় ১ কেজি হয় এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। প্রত্যেকটি পেয়ারা পলি ব্যাগ দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ফলে পোকামাকড় ও রোগবালাই অনেক কম হয়। বাজারে এ পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা বাগানে পেয়ারা ক্রয় করার জন্য আসছে এবং যোগাযোগ রাখছেন।

 

 

 

পিপিডি’র কৃষি কর্মকর্তা অনুপ কুমার ঘোষ জানান, উল্লাপাড়া উপজেলায় ফলবাগান নেই বললেই চলে, তবে পিপিডি সংস্থা ফল বাগান স্থাপনে বিভিন্ন তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমানে এ উপজেলায় দুইটি থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার বাগান রয়েছে। থাই গোল্ডেন-৮ পেয়ারার চারা রোপণের আট মাসের মধ্যে ফলন দেয় এবং ফলন তুলনামূলক অনেক বেশি পাওয়া যায়। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। তরুন উদ্যোক্তাদের বাগান করার জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর আওতায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণসহ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এ ফলবাগান সফল করতে উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।