সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বুদ্ধ’র ডাকে ছুটে আসে হাজারো পাখি, ১০ বছর ধরে খাওয়াচ্ছেন তিনি

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের জামতৈল বাজারে ভোরে পাখিদের খাবার খাওয়াচ্ছেন পাখিপ্রেমী বুদ্ধর ছবি।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প কম-বেশি সবারই জানা। বাঁশির সুরে যেমন শহরের সব ইঁদুর ছুটে এসেছিল, তেমনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের এক পাখিপ্রেমী বুদ্ধ’র ডাকে ছুটে আসে হাজারো পাখি। তবে বাঁশির সুরে নয়, তার ভালোবাসা ও খাবারের টানে পাখিরা জড়ো হয় তার চারপাশে। নিরীহ প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত পাখিদের খাবার দিয়ে আসছেন বুদ্ধ।

 

 

 

 

২০১৬ সালের দিকে হঠাৎ করেই কিছু ফলমূল, বিস্কুট ও চানাচুর দিয়ে পাখিদের খাওয়ানো শুরু করেন বুদ্ধ। এরপর ধীরে ধীরে এটি তার নেশায় পরিণত হয়। প্রতিদিন গ্রামের বাড়ির মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে হেঁটে জামতৈল বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এ সময় তার পেছন পেছন প্রায় এক কিলোমিটার পথ এগিয়ে আসে পাখির ঝাঁক। বাজারের আড়তে পৌঁছানোর পর চানাচুরের জার হাতে নিয়ে পাখিদের খাবার দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

 

পাখিপ্রেমী বুদ্ধ বলেন, ‘কামারখন্দের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বের হই। তখনই পাখিরা বের হয়ে আসে। পাখিদের খাওয়াতে খাওয়াতে জামতৈল বাজারে নিয়ে আসি। বাজার থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এক থেকে সোয়া এক কিলোমিটার। প্রায় ১০ বছর ধরে পাখিদের খাওয়াচ্ছি। বাজারের সবচেয়ে ভালো চিকন চানাচুর কিনে পাখিদের খাওয়াই। এটা করতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন পাখিদের এভাবে খাওয়াব। পরিবারের সদস্যরাও আমার এই কাজের সঙ্গে একমত।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ডাকলেই কামারখন্দ হাটখোলা থেকে জামতৈল বাজার পর্যন্ত হাজার হাজার পাখি খাবারের জন্য চলে আসে। শুরুর দিকে অল্প অল্প করে ফল, বিস্কুট ও চানাচুর দিতাম। পাখিরা সেগুলো খেত। এরপর নিয়মিত খাওয়ানো শুরু করি। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন ডাক দিলেই হাজার হাজার পাখি চলে আসে।’

 

 

 

 

কামারখন্দের এই পাখিপ্রেমী বলেন, ‘গত ১০ বছরে কখনো অভাব কিংবা অসুস্থতার মধ্যে পড়েছি। কিন্তু তখনও পাখিদের খাওয়ানোর চেষ্টা করেছি। কিছু পাখি বিকেল পর্যন্ত আমার আশপাশে থাকে। বাড়ি থেকে আনা খাবার থেকেও তাদের খেতে দিই। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন এভাবেই পাখিদের খাওয়াতে চাই।’

 

 

 

 

বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন বলেন, ‘এটা একটি ভালো উদ্যোগ। আল্লাহ তার মাধ্যমে পাখিদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এমন কাজ সবাই করে না। শুধু পাখি নয়, যেকোনো প্রাণীকে খাবার দেওয়া ভালো কাজ, সওয়াবের কাজ।’

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

বুদ্ধ’র ডাকে ছুটে আসে হাজারো পাখি, ১০ বছর ধরে খাওয়াচ্ছেন তিনি

আপডেট টাইম : ১১:৫৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প কম-বেশি সবারই জানা। বাঁশির সুরে যেমন শহরের সব ইঁদুর ছুটে এসেছিল, তেমনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের এক পাখিপ্রেমী বুদ্ধ’র ডাকে ছুটে আসে হাজারো পাখি। তবে বাঁশির সুরে নয়, তার ভালোবাসা ও খাবারের টানে পাখিরা জড়ো হয় তার চারপাশে। নিরীহ প্রাণীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত পাখিদের খাবার দিয়ে আসছেন বুদ্ধ।

 

 

 

 

২০১৬ সালের দিকে হঠাৎ করেই কিছু ফলমূল, বিস্কুট ও চানাচুর দিয়ে পাখিদের খাওয়ানো শুরু করেন বুদ্ধ। এরপর ধীরে ধীরে এটি তার নেশায় পরিণত হয়। প্রতিদিন গ্রামের বাড়ির মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে হেঁটে জামতৈল বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এ সময় তার পেছন পেছন প্রায় এক কিলোমিটার পথ এগিয়ে আসে পাখির ঝাঁক। বাজারের আড়তে পৌঁছানোর পর চানাচুরের জার হাতে নিয়ে পাখিদের খাবার দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

 

 

 

 

পাখিপ্রেমী বুদ্ধ বলেন, ‘কামারখন্দের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বের হই। তখনই পাখিরা বের হয়ে আসে। পাখিদের খাওয়াতে খাওয়াতে জামতৈল বাজারে নিয়ে আসি। বাজার থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এক থেকে সোয়া এক কিলোমিটার। প্রায় ১০ বছর ধরে পাখিদের খাওয়াচ্ছি। বাজারের সবচেয়ে ভালো চিকন চানাচুর কিনে পাখিদের খাওয়াই। এটা করতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন পাখিদের এভাবে খাওয়াব। পরিবারের সদস্যরাও আমার এই কাজের সঙ্গে একমত।’

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ডাকলেই কামারখন্দ হাটখোলা থেকে জামতৈল বাজার পর্যন্ত হাজার হাজার পাখি খাবারের জন্য চলে আসে। শুরুর দিকে অল্প অল্প করে ফল, বিস্কুট ও চানাচুর দিতাম। পাখিরা সেগুলো খেত। এরপর নিয়মিত খাওয়ানো শুরু করি। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন ডাক দিলেই হাজার হাজার পাখি চলে আসে।’

 

 

 

 

কামারখন্দের এই পাখিপ্রেমী বলেন, ‘গত ১০ বছরে কখনো অভাব কিংবা অসুস্থতার মধ্যে পড়েছি। কিন্তু তখনও পাখিদের খাওয়ানোর চেষ্টা করেছি। কিছু পাখি বিকেল পর্যন্ত আমার আশপাশে থাকে। বাড়ি থেকে আনা খাবার থেকেও তাদের খেতে দিই। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন এভাবেই পাখিদের খাওয়াতে চাই।’

 

 

 

 

বাজারের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন বলেন, ‘এটা একটি ভালো উদ্যোগ। আল্লাহ তার মাধ্যমে পাখিদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এমন কাজ সবাই করে না। শুধু পাখি নয়, যেকোনো প্রাণীকে খাবার দেওয়া ভালো কাজ, সওয়াবের কাজ।’